দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি ॥ পটুয়াখালীর দুমকিতে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও একজন সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ম্যানেজিং কমিটির কতিপয় সদস্যসহ দেলোয়ার হোসেন নামে জনৈক ছাত্র অভিভাবক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক’র বরাবরে লিখিত ওই অভিযোগ করেন।
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার ৫৬নং পূর্ব-দক্ষিন চরবয়েড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেসমিন চৌধুরী ক্ষমতার অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে খামখেয়ালী মতে চাকুরী করছেন। তিনি বেশীর ভাগ সময়ই স্কুলে না এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসের কাজের অযুহাতে সপ্তাহে ২-৩ দিন স্কুলে অনুপস্থিত থাকেন। কেউ তার এসব অনিয়মিত আসা-যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুললে তাঁর সাথে দুর্ব্যবহার করেন। প্রধান শিক্ষকের অনিয়মিত থাকার সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন আরেক সহকারী শিক্ষিকা সাদিয়া আফরিন। তিনিও নিয়মিত স্কুলে আসেন না। আসলেও ক্লাশ ফাঁকি দিয়ে অফিস কক্ষে গল্পগুজবে সময় কাটান। প্রধান শিক্ষকের প্রশ্রয়ে থেকে তিনি এসব অনিয়ম করছেন । অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রধান শিক্ষক জেসমিন চৌধুরী বিদ্যালয়ের শ্লীপ ও ক্ষুদ্র মেরামতের সরকারী অর্থ উত্তোলন করে নিজের ইচ্ছা মাফিক খরচ করেন যার কোন স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নেই। নামমাত্র মেরামত ও উপকরণ কেনাকাটায় সরকারী অর্থ অপচয় করছেন। তাদের এসব অনিয়ম ও খামখেয়ালীপনার ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট ও মান নি¤œগামীতে পৌছেছে। এসব কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় এসএমসি’র শিক্ষক প্রতিনিধি মোঃ মনোয়ার হোসেনকে সহকারী শিক্ষিকা সাদিয়া আফরিনের স্বামী কামরুল ইসলাম নানাভাবে ভয়-ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন বলে জানা যায় ।
এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক জেসমিন চৌধুরী উত্থাপিত অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, দেলোয়ার হোসেন একজন অশিক্ষিত বাজে মানুষিকতার লোক। ক্ষুদ্র মেরামতের টাকা থেকে এসএমসি’র সদস্যদের কিছু টাকা দেয়ার প্রস্তাব ছিল তা না নিয়ে উন্নয়ন কাজ করানো হয়েছে। টাকা না দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তারা আমার নামে ভূঁয়া, অসত্য ও বানোয়াট অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠিয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা এবং সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড শিক্ষা অফিসারদের নিবির পর্যবেক্ষনে সম্পন্ন করা হয়েছে। আর অনিয়মিতের বিষয়টি ক্লাস্টারের দায়িত্বরত সহকারী উপজেলা কর্মকর্তা দেখভাল করছেন। এখানে ফাঁকি দেয়ার কোন সুযোগ নেই।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনিলাল শিকদার অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গত রবিবার ইউএনও মহোদয় অভিযোগপত্রটি আমাকে দিয়েছেন এবং তদন্ত করার নির্দেশ দেন। পিএসসি পরীক্ষার ব্যস্ততা থাকায় তদন্ত করা হয়নি। আগামী দু’একদিনের মধ্যে স্কুলটি পরিদর্শণ করে পরবর্তি পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। জরুরী ভিত্তিতে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা না হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হ্রাসসহ শিক্ষা কার্যক্রমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে বলে অভিভাবকমহলে ধারনা।
আজকালের কন্ঠ /আমির /মিজান