নিজস্ব প্রতিবেদক : গাজীপুর মেট্রোপলিটন কাশিমপুর থানাধীন এনায়েতপুরস্থ জনাব আলীর জুট কারখানার সামনে মোটর সাইকেল ও অটোরিক্সা যোগে গত১৬ই আগস্ট দুপুরে ৬/৭ জন ডাকাত ককটেল বিস্ফোরণ ও চাপাতির আঘাতের মাধ্যমে ডাচ বাংলা ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং রকেট এর ডি.এস.এম শাহেদ শরীফের কাছ থেকে ৫,২২,০০০/-(পাঁচ লক্ষ বাইশ হাজার) টাকা ডাকাতি করে নিয়ে যায় এক ডাকাত দল।
উক্ত ঘটনায় কাশিমপুর থানার মামলা নং-১১(৮)২২, ধারা-৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড তৎসহ বিস্ফোরক আইন ২০১২ এর ৪/৫ মামলা রুজু হয়।
উক্ত মামলার তদন্তকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্তে প্রাপ্ত সন্দেহভাজন আসামি ১। ইউসুফ আলী রানা (৩৫) ও ২। বিধান হালদার (৩১) দ্বয়কে কাশিমপুর থানাধীন তেতুইবাড়ী সানসিটি এলাকা হইতে অভিযান চালিয়ে গত ১৯/০৯/২০২২ ইং রাত আনুমানিক ২২.৩০ ঘটিকায় গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায় উক্ত রাতেই কাশিমপুর থানাধীন লস্করচালা, লোহাকৈর রোড সংলগ্ন খান ব্রাদার্স এর খেলার মাঠে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ সহ ডাকাতি সংঘটনের জন্য সমবেত হবে। উপ-পুলিশ কমিশনার অপরাধ (উত্তর) আবু তোরাব মোঃ শামছুর রহমান, জিএমপি এর নির্দেশনায় জনাব রেজওয়ান আহমেদ, পিপিএম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) উত্তর বিভাগ, জিএমপি, গাজীপুর এর নেতৃত্বে ০৪ টি টিম মিলিতভাবে কাশিমপুর থানাধীন লস্করচালা সাকিনস্থ লোহাকৈর রোড সংলগ্ন খান ব্রাদার্স এর খেলার মাঠের আশেপাশে গোপনে অবস্থান নেয় এবং আনুমানিক রাত ১২.০০ঘটিকার সময় কয়েকজন আসামী মাঠের ভেতরে প্রবেশের করার সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে যায়। তৎক্ষণাৎ পুলিশ তাদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে চতুর্দিক থেকে ঘিরে ফেলে।
এ সময় ডাকাত দলের সদস্যরা অতর্কিতভাবে পুলিশের উপর আক্রমণ করে এবং তাদের নিকট থাকা বিস্ফোরক দ্রব্যাদি, চাপাতি দিয়ে হামলা করতঃ তাদের নিকট থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা পুলিশের উপর গুলিবর্ষণ শুরু করে এবং বিস্ফোরক দ্রব্যের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে প্রচন্ড শব্দ ও ধোঁয়ার সৃষ্টি করে।
ডাকাতদের অতর্কিত আক্রমণের শিকার হয়ে পুলিশ নিজেদের জীবন ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষার্থে ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। অন্ধকারের ভিতর ডাকাত দলের সদস্যগণ উপুর্যপরি গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালাতে থাকলে তাদের ছোড়া গুলির আঘাতে আহত নিজ দলের ডাকাত সদস্য সোলাইমান আকন ওরফে সোলেমান (৪০) কে বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। ঐ সময় ডাকাত দলের বিস্ফোরক দ্রব্যের আঘাতে পুলিশ কং/১০৮৩ মোঃ মোস্তাফিজার এর ডান হাতের বাহুতে জখম প্রাপ্ত হয়।
উভয় পক্ষের গুলাগুলির পর ঘটনাস্থল হতে দৌড়ে পালানোর সময় ডাকাতদের ধাওয়া করে ৭ (সাত) জনকে গ্রেফতার করা হয় এবং তারা ১২/১৩ জন ছিল বলে তাদের কাছে জানা যায়। গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলঃ ১। আনোয়ার হোসেন ওরফে মিতা আনোয়ার (৩৫), পিতা-মৃত ইউসুফ আলী, মাতা-ফাতেমা বেগম, গ্রাম-নীলফামারী বাজার (বন বিভাগ), থানা ও জেলা-নীলফামারী, ২। মোঃ রুবেল (৪০), পিতা-মৃত আঃ সোবাহান, মাতা-রোকেয়া বেগম, গ্রাম-চর গোবিন্দপুর, থানা ও জেলা-মাদারীপুর, ৩। বাবুল বেপারী(বাবু) (৩৬), পিতা-আবেদ আলী বেপারী, মাতা-জয়গুন বিবি, গ্রাম-পূর্ব রসুলপুর ৫নং গলি, থানা-কামরাঙ্গীরচর, ঢাকা, ৪। জাকির হোসেন ওরফে শুক্কুর ফরাজী (৪০), পিতা-মৃত ফজলুল হক, মাতা-রাহেলা বেগম, গ্রাম-বিলদৈয়ানা, থানা-নড়িয়া, জেলা-শরীয়তপুর, ৫। সোলাইমান আকন(৪০), পিতা- মোঃ নুরুল আকন মাতা-রাশিদাবেগম, গ্রাম-কাজিকান্দি, থানা-নড়িয়া, জেলা-শরীয়তপুর, ৬। সাগর বাড়ই (৪১), ৭। মৃদুল বাড়ই(৪৫), উভয় পিতা-শ্যামল বাড়ই মাতা-রিতা বাড়ই, সাং-পশ্চিম নারিকেলবাড়ী, থানা-কোটালীপাড়া, জেলা- গোপালগঞ্জ।

গ্রেফতারকালে ডাকাতদের কাছ থেকে ১টি বিদেশী পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন, ১ রাউন্ড তাজা গুলি, ১২ টি অবিস্ফোরিত ককটেল, ৩ টি চাপাতি, ২ টি মোটরসাইকেল, ২ টি হেলমেট, ১ টি অটোরিকশা, ২ রাউন্ড পিস্তলের গুলির খালি খোসা, ৭ রাউন্ড কার্তুজের খোসা, ১টি ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়।

ডাকাত দলের সদস্যদের ছোড়া গুলিতে আহত ডাকাত সোলাইমান আকন এবং বিস্ফোরক দ্রব্যের আঘাতে আহত পুলিশ কং/১০৮৩ মোঃ মোস্তাফিজার রহমানকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল, গাজীপুরে প্রেরণ করা হয়।
এ সংক্রান্তে কাশিমপুর থানায় ডাকাতির প্রস্ততি গ্রহণ, কর্তব্যরত পুলিশের উপর আক্রমণ, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার এবং বিষ্ফোরকদ্রব্য মজুদ ও বিষ্ফোরণ ঘটানোর অপরাধে চারটি পৃথক মামলা করা হয়েছে।
এ ডাকাত চক্রটি দীর্ঘদিন যাবৎ ককটেল ফাটিয়ে ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে মানুষের মাঝে ভীতি সঞ্চারের মাধ্যমে অভিনব কায়দায় ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রকাশ্য দিবালোকে ডাকাতি করে আসছিল। ডাকাতদের নাম ঠিকানা সংগ্রহপূর্বক সিডিএমএস এ অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, তাদের বিরুদ্ধে
টাঙ্গাইল এর বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার, ডিএমপি এর উত্তরা পশ্চিম থানায়,গাজীপুর এর কালিয়াকৈর থানায়, ডিএমপি এর নিউমার্কেট থানায়, শরীয়তপুর এর নড়িয়া থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাফিউল করিম জানান ডাকাত দলের সদস্যদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
আজকালের কন্ঠ /আর