Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ১১:৪৭ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২২ , ৬:১৩ অপরাহ্ণ

কুয়াকাটা হাসপাতাল থাকা শর্তে ও সেবা পাচ্ছে না রোগীরা

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

মোঃ আরিফুর রহমান কলাপাড়া প্রতিনিধি : পটুয়াখালী কুয়াকাটায় আগত পর্যটক ও দক্ষিনাঞ্চল বাসির স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পটুয়াখালী জেলার মহিপুর থানাধীন সাগর কন্যা কুয়াকাটার তুলাতলীতে “কুয়াকাটা ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল” নির্মান করে বাংলাদেশ সরকার। মহিপুর,আলীপুর ও কুয়াকাটা অঞ্চলের প্রায় দু’লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবাদানের লক্ষে প্রায় এক যুগ আগে হাসপাতালটি উদ্ভোদন করা হলেও জনবলসহ নানা সংকটের কারনে নাম মাত্র খোলা থাকে হাসপাতালটি। উদ্ভদনের পর প্রায় এক যুগ পার হয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না দেয়ায় হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি।

৭-৮ জন লোক নিয়োগ দিয়ে নাম মাত্র খোলো রাখা হচ্ছে হাসপাতালটি। দিনে কোন মতে খোলা থাকলেও সন্ধ্যার পরে এখানে কোন ডাক্তার ও কর্মচারীদেরকে খুঁজে পাওয়া দুস্কর। কুয়াকাটা হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে, ৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় প্রায় দু’লক্ষাধিক মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিতে এই হাসপাতালটি নির্মান করা হয়। গর্ভবতী সেবা ও স্বাভাবিক প্রসব সেবাসহ বিভিন্ন সেবার কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে এর কিছু নেই। আর হাসপাতালের নামের পাশে “শয্যা” শব্দটি থাকলেও আজ পর্যন্ত রুগি ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়নি। বর্তমানে প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া অন্য কোনো সেবা দেয়া হয় না। নেই পর্যাপ্ত ঔষুধের বরাদ্ধ। ফলে শুধু অবকাঠামো হিসেবেই টিকে আছে জনগুরুত্বপুর্ন এ হাসপাতাল।

নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে, গুরুত্বপুর্ন শুন্য পদগুলো হলো- জুনিয়র কনসালটেন্ট(সার্জারী), জুনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন), জুনিয়র কনসালটেন্ট(গাইনি এন্ড অবস),জুনিয়র কনসালটেন্ট(এ্যানেস), আবাসিক মেডিকেল অফিসার, মেডিকেল অফিসার, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট(ল্যাবঃ), ফার্মাসিস্ট, সিনিয়র স্টাপ নার্স, প্রধান অফিস সহকারী কাম হিসাব রক্ষক, অফিস সহকারী কাম হিসাব মুদ্রাক্ষরিক ডাটা এন্টি অপারেটর, ওয়ার্ড বয়, ল্যাব এ্যাটেনডেন্ড, আয়া-, দারোয়ান কুক, এম এল এস, এস, ঝাড়–দার। স্থানীয়দের অভিযোগ, রোগীরা জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোর চিকিৎসা সেবা না পেয়ে তাদের ২২কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিয়ে কলাপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে ঔষধ পাচ্ছেনা। এতে সব চেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন গর্ববর্তী মা ও শিশুরা। এছাড়া কুয়াকাটা বঙ্গোপসাগরের মাছধরার জেলেরা ও আগত পর্যটকরা অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাদের ২২ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিয়ে কলাপাড় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। তাছাড়া নিয়োগকৃত ডাক্তার,নার্স ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উধর্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে পছন্দসই স্থানে বদলি হয়ে চলে যান। আগত রুগী যাদেরকে নামমাত্র চিকিৎসা দেয়া হয় তাদেরও আলট্রাসনোগ্রাম, এক্সরে, রক্ত পরিক্ষা বাহির থেকে করতে হয়। চিকিৎসা সেবা না পেয়ে সন্তান প্রসবের সময় নানা জটিলতায় অকালেই প্রান প্রদীপ নিভে যায় অনেক মায়েদের। অথচ এই হাসপাতালে এক্সরে মেশিন, আলট্রা মেশিন সহ অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেও অযন্ত আর অবহেলায় পড়েআছে বছরের পর বছর। এ দিকে হাসপাতালে বৈদ্যুতিক পাখা থাকলেও তা ঘুরছে না। বিদ্যুৎ চলে গেলে নেই কোন আলোর ব্যবস্থা,ভুতুরে অবস্থা হয়ে যায় পুরো হাসপাতাল এলাকা।

কিছু দিন পূর্বে স্থানীয় আলীপুরের এক সাংবাদিক সড়ক দূর্ঘটনায় তার হাটুতে ক্ষত সৃস্টি হলে সন্ধ্যার পরপরই হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রথমে কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। কিছুক্ষণ পরে এক লোক এসে নিজেই ড্রেসিং করার জন্য প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু তিনি নিজেই জানেননা যে, হাসপাতালে পভিসেফ ও গজ কাপড় নেই। তার কাছে পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় পরিচয দেন। জুনিয়র কনসালটেন্ট(গাইনি এন্ড অবস) পদ থাকলেও এ পদে কোন ডাক্তার এখন পর্যন্ত নিয়োগ হয়নি। কুয়াকাটা হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ডা. রেজভী বলেন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার থাকলে আমাদের খুব ভাল হতো তিনি সর্বদা দেখা শুনা করতেন। এ হাসপাতালে অনেক গুলো পদ খালি রয়েছে। শুন্য পদ গুলো তাড়াতাড়ি পুরন হলে হাসপাতালটি থেকে এ অঞ্চলের মানুষ গুলো পুর্ন চিকিৎসা সেবা পেত।

কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিন্মময় হাওলাদার বলেন, বর্তমানে ওই হাসপাতালে দু’জন ডাক্তার আছে। যে পদ গুলো খালি রয়েছে তা আমি উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কয়েক মাস আগে ওই হাসপাতালে ডাক্তার ছিল মাত্র এক জন। তখন মাঝে মাঝে কলাপাড়া হাসপাতাল থেকে ডাক্তার পাঠানো হতো।

পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. এস এম কবির হাসান বলেন, কুয়াকাটা হাসপাতালে অনেক গুলো পদ ফাঁকা। এ বিষয় জনবল ঘাটতি রয়েছে এ গুলো পুরন হলে হাসপাতাল খুব ভাল ভাবে চলতো। যে পদ গুলো খালি রয়েছে তা মন্ত্রনাল জানানো হয়েছে। ওই হাসাপাতালটি এখনও পর্যন্ত কোড নম্বর পড়েনি। এজন্য সরকারি সহায়তা ও পর্যাপ্ত ঔষধ পাওয়া যাচ্ছে না।

আজকালের কন্ঠ /রাকিব

প্রিন্ট করুন