মো. মোশারফ হোসেন দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ, পূর্ণিমার প্রভাবে সমুদ্রে সৃষ্ট জোয়ার ও টানা চার দিনের ভারী বর্ষণে পটুয়াখালীর দশমিনায় বিভিন্ন চরাঞ্চলসহ অন্তত সাত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌড়াঙ্গ নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে তিন-চার ফুট বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার মূল ভূ-খন্ডের নদী তীরবর্তী বেড়িবাঁধের বাইরের এলাকাসহ বেড়িবাঁধ বিহীন চরাঞ্চলের ঘর-বাড়ি, পুকুর, মাছের ঘের ও ফসলি জমি ডুবে গেছে।
জানা যায়, টানা চার দিনের ভারী বৃষ্টিপাত, পূর্ণিমা ও লঘুচাপের কারণে নদ-নদীগুলোর পানির উচ্চতা বাড়তে থাকে। পানিতে প্লাবিত হওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে গ্রামাঞ্চল ও চরাঞ্চলগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জোয়ারের প্রভাবে তিন-চার ফুট পানির নিচে চলে গেছে উপজেলার মূল ভূ-খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চল চর বোরহান, চর উত্তর শাহজালাল, চর দক্ষিণ শাহজালাল, চর হাদী, চর বাঁশবাড়িয়া, পাতারচর ও চর ভুতম।
এদিকে, উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বৃহত্তর আবাসিক এলাকা সবুজবাগের ঘর-বাড়ি, রাস্তাঘাট তলিয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ওই এলাকার প্রায় দেড় হাজার মানুষ।

উপজেলার মূল ভূ-খন্ডের বাঁশবাড়িয়া, দশমিনা সদর ও রণগোপালদী ইউনিয়নের নদী তীর সংলগ্ন বেড়িবাঁধের বাইরে থাকা ঘর-বাড়িগুলোও একই ভাবে প্লাবিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, প্লাবিত এলাকাগুলোর অনেকেরই রান্নাঘর, চুলা, জ্বালানি, কাঠ ইত্যাদি পানিতে ডুবে যাওয়ায় পরিবারগুলো ঠিকমতো রান্নাবান্না করতে না পেরে অনাহারে অর্ধাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অন্যদিকে, জোয়ারের পানিতে এসব এলাকার স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন এসব এলাকার মানুষ।
চর উত্তর শাহজালাল গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধা শাহজাদী বেগম জানান, আমার বসতঘর ও রান্নাঘরের ভেতরে পানি ঢুকে গেছে। বসতঘর একটু কাত হয়ে পড়েছে। ঘরের মধ্যে অনেক মালামাল নষ্ট হয়ে আমার প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
চরবোরহান গ্রামের বেল্লাল হাওলাদার জানান, ফসলি জমিতে প্রায় বুক পর্যন্ত পানি উঠে চাষকৃত আমনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমার পুকুর তলিয়ে সব মাছ চলে গেছে। মহিলা, শিশু ও বৃদ্ধসহ গবাদি পশু, পাখি নিয়ে বিপদে রয়েছি। রাতের জোয়ারের সবকিছু নিয়ে দুশ্চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটাই।
পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিভিশন-২ দশমিনা-গলাচিপা পওরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মিরাজ গাজী মুঠোফোনে সাংবাদিকদের জানান, যেসব এলাকায় বেড়িবাঁধ নেই, সেসব এলাকা তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় নতুন করে বেড়িবাঁধ তৈরি করা হলে জোয়ারের পানি প্রবেশ করতে পারবে না। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে কোষ্টাল এনভাইরনমেন্ট ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় দশমিনা খালে বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণের জন্য সার্ভে করা হয়েছে। এটা নির্মাণ হলে উপজেলার বৃহত্তর আবাসিক এলাকা সবুজবাগে পানি প্রবেশ করতে পারবে না।
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল সাংবাদিকদের জানান, এব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করেছি। তাদের নির্দেশনা আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আজকালের কন্ঠ /রাকিব
আপনার মতামত লিখুন :