অনলাইন ডেস্ক : ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাহিনী অনেকটা কোণঠাসা অবস্থায়। গত মার্চে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয় রাশিয়ার বাহিনী। এরপর সম্প্রতি দিনগুলোতেও পুতিনের বাহিনী ইউক্রেনে দখল করা বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পালাতেও বাধ্য হচ্ছে বলে দাবি ইউক্রেন-পশ্চিমাদের।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, রুশ বাহিনীর দখলে থাকা ৬ হাজার কিলোমিটার অঞ্চল পুনরুদ্ধার করেছে দেশটির সেনারা। মার্চের পর রুশ বাহিনীর এটি বিশাল পশ্চাদপসরণ বলে আজ মঙ্গলবার সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে।
আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) উজবেকিস্তানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলন শুরু হচ্ছে সেদিন। ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর এটি পুতিন ও শি’র মধ্যে প্রথমবারের মতো সরাসরি সাক্ষাৎ হতে যাচ্ছে।
রাশিয়ার পার্লামেন্টের মতে, একজন সিনিয়র নেতা ইউক্রেনে পুতিনের যুদ্ধ নিয়ে স্পষ্ট সমর্থন জানান। গত বৃহস্পতি এবং শুক্রবার চীনের শীর্ষ আইনপ্রেনেতা লি ঝানশু রাশিয়ার পার্লামেন্ট ডুমার চেয়ারম্যান ভিচেস্লাভ ভলোদিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এছাড়া একইসঙ্গে তিনি দেখা করেছেন রাশিয়ার আরও আইনপ্রণেতার সঙ্গে।
ডুমার দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউক্রেন পরিস্থিতিতে রাশিয়াকে সমর্থনের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।
বিবৃতিতে লি বলেছেন, আমরা দেখছি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ন্যাটো রাশিয়ার সীমান্তের কাছে তাদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। যা রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশটির নাগরিকদের জন্য গুরুতর হুমকি। এইক্ষেত্রে রাশিয়া যে পদক্ষেপ নিয়েছে তার প্রয়োজনীয়তা আমরা পুরোপুরি বুঝেছি।
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে হামলা শুরুর কিছুদিন আগে চীনে শি জিনপিং ও পুতিনের মধ্যে বৈঠক হয়। সেই সময় তারা দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ‘কোনো নির্দিষ্ট সীমা না থাকার’ কথা উল্লেখ করেছেন।
ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পশ্চিমের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি হয়েছে। এই অবস্থায় চীন রাশিয়ার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। রাশিয়ার জ্বালানি কিনে রাশিয়াকে আর্থিক সমর্থনও দিয়ে যাচ্ছে চীন। এছাড়া রাশিয়ায় গাড়ি ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানি করছে চীন।
অন্যদিকে তাইওয়ান ইস্যুকে কেন্দ্র করে পশ্চিমের সঙ্গে চীনের সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি হলে চীনকে সমর্থন জানায় রাশিয়া।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এমন পরিস্থিতিতে উজবেকিস্তানে বৈঠক করে চীন ও রাশিয়ার নেতা পশ্চিমের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার সংকেত দিতে পারেন।
তাইওয়ানের ইন্সটিটিউট ফর ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি রিসার্চের মধ্য এশিয়া বিশেষজ্ঞ চিয়েন-ইয়ু শিহ জার্মান ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে বলেন, পশ্চিমের সঙ্গে চীন ও রাশিয়ার উত্তেজনা দেশ দুটির মধ্যে সহযোগিতা বাড়াবে।
কিরঘিস্তানের থিংক ট্যাংক ওএসসিই একাডেমির সিনিয়র রিসার্চার নিভা ইয়াও বলছেন, পশ্চিমের নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক অর্ডারে পরিবর্তন আনতে চায় রাশিয়া ও চীন। সেই কারণে দেশ দুটির মধ্যে জোট তৈরি হচ্ছে।
তবে মধ্য এশিয়ার দেশগুলো আরব বিশ্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চাইছে। কারণ ইউক্রেন ও তাইওয়ানকে ঘিরে শুরু হওয়া উত্তেজনার জন্য তারা চীন কিংবা রাশিয়ার ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল হতে চাইছে না।
আজকালের কন্ঠ /রাকিব