মো. মোশারফ হোসেন দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : সামান্য বৃষ্টিতেই পটুয়াখালীর দশমিনার ২২ নং মধ্যগুলি আউলিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিচু মাঠসহ ভবনের চতুর্দিকে জমে হাঁটু পানি। মূল সড়ক থেকে বিদ্যালয়ে প্রবেশের সংযোগ সড়ক না থাকায় এবং পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হয় শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।
জানা যায়, প্রায়ই পানিতে ভিজে নষ্ট হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরিহিত পোষাকসহ বই, খাতা ও সঙ্গে থাকা খাবার। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকার কারণে পঁচা দুর্গন্ধে নষ্ট হয় বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার পরিবেশ। বংশবিস্তার করে মশা। এতে বিদ্যালয়টিতে কমছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার।

বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোঃ ছাইফুল জানায়, বিদ্যালয়ে প্রবেশের কোন রাস্তা না থাকায় আমরা পানির মধ্য দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করি। বিদ্যালয়ে প্রবেশের জন্য আমাদের রাস্তা দরকার। মাঠে যাতে পানি জমতে না পারে সে জন্য মাঠ ভরাট করে উঁচু করা দরকার।
দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নুপুর আক্তার জানায়, রাস্তা না থাকা ও মাঠসহ স্কুল ভবনের চতুর্দিকে জলাবদ্ধতা থাকায় স্কুলে প্রবেশ করতে গিয়ে পিছলে পড়ে পানিতে ভিজে গেছি। পায়ে ব্যথা পেয়েছি। আমরা খেলাধুলার কোন জায়গা পাইনা। অনেক সহপাঠী স্কুলে আসা কমিয়ে দিয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বিদ্যালয়টিতে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১৮৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে নিচু খেলার মাঠসহ ভবনের চতুর্দিকে পানি জমেছে। নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা না থাকায় প্রায় ২/৩ সপ্তাহ জলাবদ্ধতা থেকে যায়। এতে মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হয় পাঠদান। খেলার মাঠের অপর পাশেই রয়েছে পুকুর যা মাঠের জমাকৃত পানির সঙ্গে মিলে একাকার হয়ে গেছে। রয়েছে দুর্ঘটনার আশংকা। শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ থেকে মাঠে নামতে পারছেনা। জলাবদ্ধতার কারণে যাতায়াতের সময় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অনেকেরই পা পিছলে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
এছাড়াও মাঠে জমে থাকা পানির কারণে শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্ট করে শরীর চর্চা ও জাতীয় সংগীত গাইতে হয় ভবনের নিচতলায় স্বল্প জায়গার মধ্যে।
শিক্ষার পরিবেশ ও মান বজায় রাখতে বিদ্যালয়ের মাঠের জলাবদ্ধতা নিরসনসহ মাঠ ভরাট ও সংযোগ সড়ক স্থাপনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আল মামুন মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত চিঠি প্রেরণ করেছি। পরবর্তী উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় বিষয়টি উত্থাপন করব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি। স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বিষয়টি দেখতে বলেছি। অতি শীঘ্রই আমি পরিদর্শনে যাব।
আজকালের কন্ঠ /রাকিব