পটুয়াখালী প্রতিনিধি : আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পটুয়াখালী জেলার এক ডজন নেতারা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন অনেকে। এছাড়াও আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন না পেলে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবেও দুই-একজন নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে। এর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন অংশগ্রহণ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন পটুয়াখালী শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান হাফেজ।
স্বতন্ত্র প্রার্থীর ঘোষণা দেওয়ায় সে ক্ষেত্রে দলীয় মনোনয়নের গুরুত্বের চেয়ে তৃণমূলের জন প্রতিনিধিদের গুরুত্ব বেড়ে গেছে। তাই এবারের জেলা পরিষদ নির্বাচনে কদর বেড়েছে জেলার উপজেলা চেয়ারম্যান- ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরমেয়র- কাউন্সিলর ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের।
এদিকে ইসি’র তফসিল ঘোষণার পর থেকেই এ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সহ বিভিন্ন বৈঠকে চালাচ্ছেন প্রচার প্রচারণা। তবে দলীয় মনোনয়ন চেয়ে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান মোহন মিয়া, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি কাজী আলমগীর, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. রেজাউল করিম আলমগীর মিয়া, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট মো. সুলতান আহমেদ মৃধা, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ভিপি আব্দুল মান্নান, রাঙ্গাবালী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন, জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সিকদার, জেলা আওয়ামীলীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি মো. তসলিম সিকদার, জেলা শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শাহীন মিয়া ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের ঢাকা মহানগর সভাপতি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাড. হাফিজুর রহমান বলেন, ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগ করার কারনে আমার বাবা ও ভাই কে জেলে যেতে হয়েছে। আমার পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিবার। আমি নিজে রাজনৈতিক শিকার হয়ে এখনো পঙ্গুত্ব জীবন যাপন করছি। বিএনপি সরকারের আমলে হামলা ও মামলার শিকার হয়েছি আমরা। আমি যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটিতে ছিলাম অথচ এখন জেলা যুবলীগের কমিটিতে আমাকে কোন পদ পদবী দেয়া হয়নি। এজন্য নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতার বলেই জেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করব ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরো ও বলেন, আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় জনপ্রতিনিধিরা আমাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। আমি যদি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হতে পারি তাহলে সকল স্তরের জনপ্রতিনিধির নিকট অপ্রত্যাশিত ডিমান্ড করব না, তাদের সম্মানটুকু অটুট রাখবো। পটুয়াখালী জেলাকে পর্যটন জেলায় রুপান্তরিত করব।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পটুয়াখালী জেলা পরিষদে মোট ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ৯০ জন। এর মধ্যে পাঁচ পৌরসভায় পাঁচজন মেয়র, ৪৫ জন কাউন্সিলর ও ১৫ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর, আটটি উপজেলা পরিষদের আটজন চেয়ারম্যান ও ১৬ জন ভাইস-চেয়ারম্যান, ৭৭টি ইউনিয়ন পরিষদের ৭৭ জন চেয়ারম্যান, ৬৯৩ জন সাধারণ ইউপি সদস্য ও ২৩১ জন সংরক্ষিত ইউপি সদস্য রয়েছেন।
গত ২৩ আগস্ট জেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এতে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১৫ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ১৮ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের সময় ১৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর, আপিল নিষ্পত্তি ২২ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৫ সেপ্টেম্বর, প্রতীক বরাদ্দ ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ভোটগ্রহণ হবে ১৭ অক্টোবর।
আজকালের কন্ঠ /রফিক