কুয়াকাটায় নিরাপদ খাদ্য অভিযানের নামে হয়রানী, প্রতিবাদে খাবার হোটেল বন্ধ ঘোষণা | Daily AjKaler Kontho

কুয়াকাটায় নিরাপদ খাদ্য অভিযানের নামে হয়রানী, প্রতিবাদে খাবার হোটেল বন্ধ ঘোষণা


আজকালের কণ্ঠ প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৭, ২০২২, ২:৩০ অপরাহ্ন
কুয়াকাটায় নিরাপদ খাদ্য অভিযানের নামে হয়রানী, প্রতিবাদে খাবার হোটেল বন্ধ ঘোষণা

আরিফুর রহমান, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর কুয়াকাটা সৈকত পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। তাই পর্যটকদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাসব্যাপী ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে খাবার হোটেলগুলোতে জরিমানা করার সপ্তাহ পার হতে না হতেই একই হোটেলগুলোতে পূনরায় ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান পরিচালনা করে মোটা অংকের জরিমানা করায় অতিষ্ঠ হয়ে পরেছে হোটেল ব্যবসায়ীরা।

হোটেলগুলোতে মান সম্মত খাবার পরিবেশনে ব্যর্থ হওয়ায় কয়েক দফা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এদিকে এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে খাবার হোটেল মালিক সংগঠন এর প্রতিবাদ জানিয়ে আজ বুধবার সকাল থেকে খাবার হোটেল রেঁস্তোরা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়। আর এতে ভোগান্তিতে পরেছে আগত পর্যটকরা।

কোন প্রকার আগাম নোটিশ ছাড়াই খাবার হোটেল বন্ধ করে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পর্যটকরা। সকাল থেকেই খাবার না পেয়ে ভোগান্তিতে পরেছেন তারা।

অপরদিকে খাবার হোটেল মালিকরা বলছেন এক মাসের মধ্যে তাদের হোটেল গুলোতে তিন থেকে চারবার জরিমানা করা হয়েছে। রেঁস্তোরা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া তাদের অন্য কোন উপায় ছিল না।

তবে কোন প্রকার আগাম আলোচনা ছাড়াই খাবার হোটেল বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করায় জেলা প্রশাসন, আবাসিক হোটেল মোটেল মালিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে খাবার হোটেল ধর্মঘটে ভোগান্তিতে পড়া পর্যটকদের কথা চিন্তা করে পর্যটন মোটেলের রেস্তোঁরা পর্যটক ও সাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে।

ওইসব ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দফায় দফায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নামে তাদের কাজ থেকে জরিমানা আদায় করছেন। এদিকে প্রশাসন জানিয়েছে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে তাদের তাগিদ দিলেও একই কাজ বার বার করছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় ক্ষুব্ধ কুয়াকাটা খাবার হোটেল মালিক সমিতি সংগঠনের সভাপতি মোঃ সেলিম মুন্সী মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) রাত ১০টায় স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়ে বুধবার সকাল থেকে খাবার হোটেল বন্ধ করে দেয়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খাবার হোটেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নামে মোটা অংকের টাকা জরিমানা করে যাচ্ছে। একই হোটেলকে একাধিকবার এই জরিমানার আওতায় নেওয়া হয়েছে। মোবাইল কোর্টের নামে আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তাই কুয়াকাটার সকল খাবার হোটেল মালিক একত্রিত হয়ে আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

সংগঠনের সিনিয়র সহ সভাপতি মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, আমার মালিকানাধীন আল-মদিনা নামের একটি খাবার হোটেলে গত ১১ আগস্ট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।১৬ আগস্ট পুনরায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাৎক্ষণিক জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় আমাকে বেশকিছুক্ষণ পুলিশ বক্সে আটকে রাখা হয়। সুদে আনা টাকা দিয়ে জেল খাটা থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন বলেও জানান।

খাবার হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ কলিম মাহমুদ বলেন, প্রশাসনের এই হয়রানি সামাল দিয়ে আমাদের পক্ষে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব না।তাই আমরা প্রায় ৫০টি খাবার হোটেল মালিক একমত হয়ে বুধবার (১৭ আগস্ট) থেকে প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এদিকে আবাসিক হোটেল মালিকদের সংগঠন কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এম এ মোতালেব শরীফ বলেন, খাবার হোটেল বন্ধ থাকা বা রাখা সমাধান নয়। পর্যটকদের স্বার্থে ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের এখনই সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।

মঙ্গলবার সকালে ৩০ সদস্যের একটি বহরে ঢাকার মুন্সীগঞ্জ থেকে কুয়াকাটা বেড়াতে আসা পর্যটকরা বলেন, সকাল থেকে কিছুই খাওয়া হয়নি সাথে পরিবারের শিশুসহ বয়স্ক লোকজন রয়েছে, তাই এ সমস্যার দ্রুত সমাধান হওয়া জরুরী।

এবিষয় কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোঃ শহিদুল হক বলেন, পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় রেঁস্তোরা মালিকদের আকস্মিক ধর্মঘট ডাকাটা অযৌক্তিক। পর্যটকদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশনের গুরুত্বে কুয়াকাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

জরিমানা করার পরও খাবার হোটেল মালিকরা পর্যটকদের পচাঁবাসি খাবার পরিবেশন করছে।খাবার হোটেল মালিকরা তাদের যৌক্তিক দাবি থাকলে জেলা প্রশাসককে জানাতে পারেন।

আজকালের কন্ঠ /রাকিব /মিজানুর রহমান