Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ১২:৫৯ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ এপ্রিল ১৪, ২০২০ , ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ

করোনার মধ্যেই এলো পহেলা বৈশাখ

লেখকঃ আজকালের কণ্ঠ

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশের কিছু টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠান ছাড়া ঘরের বাইরে কোনও ধরনের আয়োজন না রেখেই আজ সারা দেশে উদযাপন করা হবে বাংলা নববর্ষ ১৪২৭ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ। এবার ডিজিটাল পদ্ধতিতে পহেলা বৈশাল উদযাপন অনুষ্ঠান সরকারি ও বেসরকারি সব টেলিভিশনে একযোগে সম্প্রচার করা হবে বলে সোমবার জানিয়েছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠান শুরু হবে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে।

তবে এবছর প্রতিবারের মতো রমনা পার্কের বটমূলে বিশ্বকবি রাবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত গান ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ গেয়ে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিতে পারছেন না ছায়ানটের শিল্পীরা।

বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিতে প্রতিবছর ১৪ এপ্রিল আড়ম্বরপূর্ণভাবে উদযাপিত হয় বাঙালি জাতির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। বৈশাখের প্রথম সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের করা হয় বিশাল মঙ্গল শোভাযাত্রা।

এবার সব কেড়ে নিয়েছে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস। বণ-গন্ধহীন এক নববর্ষ আজ বাঙালির ঘরে। করোনার সংক্রমণ রোধে জনসমাগম এড়াতে পহেলা বৈশাখে সব ধরনের অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে।

রমনার বটমূলের অনুষ্ঠান এবার হবে না বলে গত ১ এপ্রিলই জানিয়েছিল ছায়ানট। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৯৬৭ সাল থেকে নিয়মিত বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে রমনার বটমূলে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করে আসছে ছায়ানট। শুধু ১৯৭১ এর ব্যতিক্রম হয়েছিল। তবে, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে এ বছরও তারা এ আয়োজন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তার আগে জনসমাগম এড়াতে পহেলা বৈশাখের সব অনুষ্ঠান স্থগিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

গত সাড়ে ৪০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাঙালি জাতির আপন সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে পহেলা বৈশাখ উদযাপন। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের ১৫৫৬ সালে মুঘল সম্রাট আকবর বাংলা পঞ্জিকা চালু করেছিলেন। বর্তমানে বাংলাদেশের বেশিরভাগ অংশের অধীনস্থ তৎকালীন ‘সুবাহ বাংলা’ অঞ্চলে ভূমি কর আদায়ের সময়কে সহজ করার জন্য এর প্রচলন হয়েছিল।

এদিকে নববর্ষ উপলক্ষে দেশে-বিদেশে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, এখন আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হচ্ছে দেশ ও দেশের জনগণকে করোনার ছোবল থেকে রক্ষা করা। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বাংলাদেশের জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থেকে করোনা মোকাবিলা করার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে সবাইকে জনসমাগম এড়িয়ে এবারের বাংলা নববর্ষ ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঘরে বসে উদযাপনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশে সোমবার পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮০৩ জন।

প্রিন্ট করুন