স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘ক্যাসিনো ও মাদক কারবারে জড়িতরাও ঢাকা সিটি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। অন্যায়ভাবে উপার্জনের টাকায় অনেকে নির্বাচন করে গায়ের জোরে টিকে থাকতে চান। তবে তারা যেই হোক- রাজনীতিবিদ আর জনপ্রতিনিধি, তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।
রবিবার (১২ জানুয়ারি) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের একটি স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার উদ্বোধনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে ক্যাসিনো সংশ্লিষ্টতায় বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা মমিনুল হক সাঈদের অংশ নেয়া নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অন্যায়ভাবে অর্থ উপার্জন করে অনেকে টিকে থাকতে চান। আবার কেউ নির্বাচন করে গায়ের জোরে টিকে থাকতে চান। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে আমরা কাউকে ছাড় দিবো না।’
গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর শুদ্ধি অভিযান শুরু হলে ক্যাসিনো ব্যবসায় সংশ্লিষ্টতায় নাম আসে ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল হক সাঈদের। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার গত ২৬ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফেরেন। ডিএসসিসির ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে দলীয় সমর্থন না পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। তার স্ত্রী ফারহানা আহম্মেদ বৈশাখীও এই ওয়ার্ড থেকে নির্বাচন করছেন।
ক্যাসিনোর টাকায় কেউ কেউ নির্বাচন করছে প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা অন্যায়ভাবে টাকা উপার্জন করেন তারা কীভাবে টাকা ব্যয় করতে হয় সেটা জানেন না। কাজেই তারা নানান ধরনের অন্যায় করে টিকে থাকতে চান।’
‘কেউ নির্বাচন করে গায়ের জোরে টিকে থাকতে চান। যে যেভাবেই টিকে থাকার চেষ্টা করুক না কেন প্রধানমন্ত্রী চান দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে। আমরা কাউকে ছাড় দিবো না। তিনি রাজনীতিবিদ হোক আর জনপ্রতিনিধি হোক। যারাই অন্যায় করবেন তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে, চলবে।’
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইয়াবা তৈরি হচ্ছে কি-না প্রশ্নের জাবাবে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের জানা মতে, সেখানে ইয়াবা তৈরি হচ্ছে না। ক্যাম্প একটি ছোট জায়গা। ১১ লক্ষ শরনার্থী রয়েছে। কেউ হয়ত ইয়াবার সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছে কিংবা ছিল। ক্যাম্পের বাইরে এসে যারা এধরনের কাজ করছে তারা আমাদের নজরে আসছে এবং তাদেরকে আমরা ধরছি।’
পার্শ্ববর্তী দেশের কারণে বাংলাদেশ মাদকের ভিকটিম হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের দেশ কখনও মাদক তৈরি করে না বা করতে দেয়া হয় না। কিন্তু ভিকটিম হচ্ছি। পাশ্ববর্তী দেশ থেকে আমরা ভিকটিম হচ্ছি। আমাদের দেশের ডিমাণ্ডের জন্য মাদক আসছে। আমরা সেই ভিকটিমকে খুঁজছি।’
মিয়ানমার সীমান্তে বিজিবি কাজ করছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সীমান্তের যেসব জায়গায় মাদক আসে সেসব জায়গায় আমরা বর্ডার রোড করতে যাচ্ছি। দুর্গম এলাকায় হেলিকপ্টার দিয়ে টহল বাড়ানো হচ্ছে। কোস্টগার্ডকে শক্তিশালী করেছি। আরো শক্তিশালী করব যাতে কোনও ধরনের মাদক যেন দেশের মধ্যে না আসে।’