বাগেরহাট প্রতিনিধি : সুন্দরবনে যারা দস্যুতা করার জন্য চেষ্টা করছেন তারা সাবধান হোন, আমরা কাউকে ছাড় দেবো না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেছেন, সুন্দরবনে যে শান্তিময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে যেকোনো মূল্যে তা ধরে রাখবো। শুক্রবার (১ নভেম্বর) বাগেরহাট শেখ হেলাল উদ্দিন স্টেডিয়ামে আয়োজিত সুন্দরবনকে দস্যু মুক্ত ঘোষণার বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে যারা বিপথগামী পথ থেকে ফিরে আসছেন তাদের প্রতি আমাদের সুদৃষ্টি রয়েছে। তাদের স্বাভাবিক জীবন-যাপনের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এ সময় মন্ত্রী র্যাবের তালিকা অনুযায়ী আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের মামলা থেকে মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে যাদের নামে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা রয়েছে সেগুলো আইন অনুযায়ী বিচার হবে এবং নিজেদেরই পরিচালনা করতে হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে সকাল ১০টায় হেলিকপ্টা যোগে বাগেরহাটে পৌঁছান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
সুন্দরবন দস্যুমুক্তির প্রথম বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে অন্যান্যেও মধ্যে বক্তব্য রাখেন,খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য নিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, র্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদ, কোস্টগার্ডের ডিজি আশরাফুল হক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শামছুল হক টুকু, আদিবাসী শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি, ডা. মোজাম্মেল হেসেন এমপি, শেখ সারহান নাসের তন্ময় এমপি, সংরক্ষিত মহিলা এমপি গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ, পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়, র্যাব- ৬ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সৈয়দ মো. নুরুস সালেহীন ইউসুফ প্রমুখ।
র্যাব মহাপরিচালক ড. বেনজির আহমেদ বলেন, আমরা বনদস্যুদের যে সহযোগিতা করেছি, তা যদি তারা মামলা মোকদ্দমার পেছনে খরচ করে তাহলে তারা অসহায় হয়ে যাবে। পরবর্তীতে আমরা জানতে পেরেছি, অনেক দস্যুর বিরুদ্ধে বন আইনে কনভিকশন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সবার কাছে অনুরোধ করবো তারা যেন এসব মামলার কনভিকশন থেকে দস্যুদের মুক্তি দেয়। আত্মসমর্পণকরা দস্যুরা যদি এখন জেল খাটে তাহলে তাদের পরিবার অসহায় হয়ে পড়বে। তাই বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা ও পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার ও জনপ্রতিনিধিদের আত্মসমর্পণকরা বনদস্যুদের দেখে রাখার অনুরোধ জানান তিনি।
২০১৮ সালের এই দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করেছিলেন। এক বছর পরে একইদিনে বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করণে যারা ভূমিকা রেখেছিলেন তাদের সম্মাননা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করণের র্যাবের ভূমিকা ও দস্যুদের আত্মসমর্পণের উপর নির্মিত চলচ্চিত্র ‘অপারেশন সুন্দরবন’ এর ডিজিটাল লোগো ও মোড়ক উন্মোচন করেন মন্ত্রী। এসময় চলচ্চিত্রের পরিচালক, প্রযোজক ও অভিনেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আত্মসমর্পণকরা দস্যুদের উপহার সামগ্রী তুলে দেন।
আজকালের কন্ঠ /সওকাত /মিজান