আজকালের কন্ঠ ডেস্ক : রোববার বিকেলে (২০ অক্টোবর) গণভবনে সহযোগী সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্যরা বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ গণমাধ্যমকে এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতে সংগঠনের চলমান ‘সংকট’ উত্তরণে দিকনির্দেশনা চাইবেন যুবলীগ নেতারা। একই সঙ্গে সপ্তম জাতীয় কংগ্রেসসহ ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়েও তার পরামর্শ চাওয়া হবে।
শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতে যেসব বিষয়ে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা চাওয়া হবে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কে হবেন, জাতীয় কংগ্রেসে (সম্মেলন) কে সভাপতিত্ব করবেন, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কাউন্সিলের তারিখ নির্ধারণ এবং দক্ষিণের সভাপতি পদে ভারপ্রাপ্ত দেয়া হবে কিনা।
তবে সংগঠনটির চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী থাকছেন না এই বৈঠকে। সম্প্রতি ক্যাসিনোকাণ্ডসহ বিভিন্ন সমালোচনার মুখে প্রভাবশালী এই নেতা অনেকটা আড়ালে রয়েছেন। তাকে গণভবনে নিয়ে যেতে নিষেধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে ৯ অক্টোবর যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের চার সংগঠনের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২৩ নভেম্বর যুবলীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যুবলীগের সর্বশেষ জাতীয় সম্মেলন হয়েছিল সাত বছর আগে।
২০১২ সালের ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় তিন বছর মেয়াদি সর্বশেষ সম্মেলন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এরপর ২০১৫ সালে পরবর্তী সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। মূলত সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের অনীহার কারণেই নির্ধারিত সময়ের পরও সম্মেলন করা যায়নি বলে অভিযোগ কয়েকজন যুবলীগ নেতার।
সূত্র জানায়, আজকের বৈঠকে যুবলীগের জাতীয় কংগ্রেসের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মধ্য থেকে একজনকে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক করা হতে পারে।
আবার ওমর ফারুক চৌধুরীকে সরিয়ে প্রেসিডিয়ামের একজন সদস্যকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাবও আসতে পারে। এ দুই সম্ভাবনার যেকোনো একটি কার্যকর হলে ওমর ফারুক চৌধুরী বাদ পড়বেন। অর্থাৎ তাকে বাদ দিয়েই যুবলীগের কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে।
প্রসঙ্গত, ক্যাসিনোঝড়ের পর অনেকটা টালমাটাল অবস্থা যুবলীগে। এরপর থেকে অনেকটাই আড়ালে চলে গেছেন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। যুবলীগের জাতীয় কংগ্রেস আসন্ন হলেও যাচ্ছেন না সাংগঠনিক ও ব্যক্তিগত কার্যালয়ে।
এর মধ্যে তাকে ছাড়াই প্রেসিডিয়ামের মিটিং হয়েছে। সেই মিটিং থেকেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা ও তার নির্দেশনা নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সেই বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে কোন কোন বিষয় তুলে ধরা হবে সে বিষয়ে আলোচনা করে খসড়া তৈরি করা হয়।
এরপর গেল বুধবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্তে কথা বলেন হারুনুর রশীদ। এসময় প্রধানমন্ত্রী প্রথমে শুক্রবার দেখা করার সময় দিয়েছিলেন। কিন্তু ওইদিন শেখ রাসেলের জন্মদিন হওয়ায় যুবলীগ নেতাদের সাক্ষাতের দিন পরিবর্তন করে আজ বিকাল ৫টা করা হয়।
আজকালের কন্ঠ /রাকিব