কারাবন্দী হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের মুক্তির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির আজ মঙ্গলবার গণমাধ্যমে এ কথা জানিয়েছেন বাবুনগরী।
এর আগে গতকাল সোমবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নেতাকর্মীদের মুক্তির আবেদন জানান হেফাজত নেতারা। সেখানে হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরীও উপস্থিত ছিলেন।
হেফাজতে ইসলামের আমির বলেন, ‘ব্যক্তিগত কোনো কারণে নয়, জাতীয় স্বার্থে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে আমরা আলেম-ওলামাদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধ এবং কওমি মাদ্রাসাগুলো খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের দাবিদাওয়াগুলো মেনে নেওয়ার মৌখিক আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা আশা করছি, সরকার দ্রুত আমাদের দাবিগুলো মেনে আলেম-ওলামাদের মুক্তি দেবে।’
জুনায়েদ বাবুনগরী আরও বলেন, ‘সারা দেশে বহু নিরীহ আলেম-ওলামাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা কারাগারে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বৈঠকে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিষয়গুলো তুলে ধরেছি। আমরা জানিয়েছি, হেফাজতের বিরুদ্ধে কথিত যে সহিংসতার অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। হেফাজতের কোনো নেতাকর্মী সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত ছিল না। কিছু দুষ্কৃতকারী হেফাজতের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করেছে। তাদের খুঁজে বের করা দরকার। নিরীহ আলেম-ওলামাদের এসবের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।’
গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসেরাত ৮টা ৩৭ মিনিটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের ধানমন্ডির বাসার সামনে আসেন জুনায়েদ বাবুনগরী। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীরা প্রশ্ন করলেও তিনি কোনো কথা বলেননি। পরে সংগঠনের মহাসচিব নুরুল ইসলাম জেহাদিসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাসায় প্রবেশ করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রায় দুই ঘণ্টা পর বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি হেফাজতে ইসলামের বর্তমান আমির।
তবে আজ দুপুরে রাজধানীর খিলগাঁও মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাবুনগরী। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মৌখিক আশ্বাসের কথা জানান তিনি। আজকের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতের মহাসচিব নুরুল ইসলাম জেহাদি, জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, নায়েবে আমির আবদুল আওয়াল, প্রচার সম্পাদক মুহিউদ্দীন রাব্বানী, আবদুল কাইয়ুম সুবহানী ও জহুরুল ইসলাম।