Header
প্রিন্ট তারিখঃ নভেম্বর ৮, ২০২৬ , ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ নভেম্বর ৮, ২০২৬ , ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ

সূর্য ডুবেছে, অফিস তালাবদ্ধ; তবু পতাকা উড়ছে গলাচিপা মৎস্য অফিসে

লেখকঃ নিশাদ আহম্মেদ, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

সরকারি বিধি অনুযায়ী সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা নামানোর নিয়ম থাকলেও পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা মৎস্য অফিসে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত উড়তে দেখা গেছে জাতীয় পতাকা। শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় অফিসটি তালাবদ্ধ ও চারপাশ অন্ধকার থাকলেও ভবনের সামনে পতাকা উত্তোলিত ছিল। নির্ধারিত সময়ের পরও পতাকা উত্তোলিত থাকার ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীদের দায়িত্বহীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা মৎস্য অফিসের প্রধান ফটক ও কার্যালয় তালাবদ্ধ। অফিসের ভেতরে কিংবা আশপাশে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পাওয়া যায়নি। তবে অফিসের সামনে জাতীয় পতাকা উড়ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে মৎস্য অফিসের প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহকারী বিপ্লব সেখানে এসে পতাকাটি নামিয়ে ফেলেন।

বিপ্লব জানান, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও নামানোর দায়িত্ব অফিস সহায়ক শোভন বিশ্বাসের। তিনি ছুটিতে থাকায় সকালে কে পতাকা উত্তোলন করেছেন, তা তাঁর জানা নেই। মৎস্য কর্মকর্তার কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি অফিসে এসে পতাকাটি নামিয়েছেন।

অফিস সহায়ক শোভন বিশ্বাসের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ছুটিতে থাকার কথা জানান। পাশাপাশি বলেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে পতাকা নামানোর দায়িত্ব সুধাংশু মিস্ত্রির।

অন্যদিকে, সুধাংশু মিস্ত্রির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বর্তমানে তিনি বরিশালে অবস্থান করছেন। শনিবার কে পতাকা উত্তোলন করেছেন, তা তাঁর জানা নেই। সোহেল নামে একজনের পতাকা নামানোর দায়িত্ব ছিল বলে তিনি জানান। তবে সোহেল কোথায় রয়েছেন, তা তিনি জানেন না। তাঁর দাবি, মৎস্য কর্মকর্তা বাড়িতে চলে যাওয়ায় ওই সময় অফিসে কেউ ছিলেন না।

এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, “এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল। অফিস সহায়ক শোভন ছুটিতে থাকায় এবং কর্মচারী সোহেল কিছু না জানিয়ে বাড়িতে চলে যাওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি জানার পর তিনি লোক পাঠিয়ে পতাকা নামানোর ব্যবস্থা করেছেন।”

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, “বিষয়টি জানার পর মৎস্য কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, যাঁর পতাকা নামানোর দায়িত্ব ছিল, তাঁর স্ত্রী অসুস্থ হওয়ায় কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি চলে গেছেন। এ কারণে এমনটি ঘটেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না।”

এ ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় সংগীত, পতাকা ও প্রতীক আদেশ, ১৯৭২-এর ৪ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এ আদেশ বা এর অধীন প্রণীত বিধিমালার কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

ফলে বিশেষ কোনো উপলক্ষ ছাড়া সরকারি দপ্তরে সূর্যাস্তের পরও জাতীয় পতাকা উত্তোলিত রাখার বিষয়টি বিধিমালার পরিপন্থী। গলাচিপা উপজেলা মৎস্য অফিসে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা খতিয়ে দেখা এবং ভবিষ্যতে জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের আরও সতর্ক থাকার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন