নীলফামারীর ডোমারে শ্বশুরবাড়িতে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে পরিবারের সবাইকে অচেতন করে ঘরের ট্রাঙ্ক ভেঙে টাকা-পয়সা লুটের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জামাইসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রায় সাত মাস পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার (৪ নভেম্বর) গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ডোমার থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নীলফামারী সদর উপজেলার হাজীগঞ্জ এলাকার এজাজুল ইসলামের ছেলে মো. আজিম (২৬) এবং একই এলাকার তফিজ উদ্দিনের ছেলে তহিদুল ইসলাম (২৮)। তাঁদের মধ্যে আজিম মামলার বাদী রেখা বেগমের মেয়ের জামাই।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২ এপ্রিল রাতে অভিযুক্ত আজিম তাঁর বন্ধু তহিদুলকে সঙ্গে নিয়ে ডোমার উপজেলার জামিরবাড়ি ইউনিয়নের হুজুরপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে খাওয়াদাওয়ার একপর্যায়ে কৌশলে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে দেন তাঁরা। পরে ওই খাবার খেয়ে পরিবারের সবাই অচেতন হয়ে পড়লে সেই সুযোগে ঘরের ট্রাঙ্ক ভেঙে নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে পালিয়ে যান অভিযুক্তরা।
পরদিন সকালে বিষয়টি টের পেয়ে ভুক্তভোগী রেখা বেগম বাদী হয়ে ডোমার থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে আসামিরা আত্মগোপনে ছিলেন।
দীর্ঘ তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত করে পুলিশ। পরে মঙ্গলবার রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে নিজ নিজ বসতবাড়ি থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডোমার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আঙ্গুর ইসলাম জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করার পর মঙ্গলবার রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি