Header
প্রিন্ট তারিখঃ নভেম্বর ৫, ২০২৬ , ২:৪০ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ নভেম্বর ৫, ২০২৬ , ১২:৩৬ অপরাহ্ণ

তেলাপোকার ভিডিও সত্যি নাকি অপপ্রচার? লক্ষ্মীপুরে বিতর্কের ঝড়, মন্ত্রীর মানহানির অভিযোগে জিডি

লেখকঃ জাকির হোসেন জুয়েল, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতালে রোগীদের শয্যার নিচে তেলাপোকা ও বিভিন্ন কীটপতঙ্গের উপস্থিতি দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও রোগীদের স্বাস্থ্যনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি ভিডিওটি নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন বিতর্ক। এদিকে, পানি সম্পদমন্ত্রী ও লক্ষ্মীপুরের সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির মানহানির অভিযোগ তুলে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন হাসপাতালের এক কর্মচারী। তবে ভাইরাল ভিডিওটি লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সিভিল সার্জন।

প্রাপ্ত জিডির কপি সূত্রে জানা যায়, গত ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির। আবেদনে তিনি নিজেকে লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতালের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

জিডিতে ‘Color of Lakshmipur’, ‘Uzamaul Fresh’ ও ‘Anis Hossain’ নামের কয়েকটি ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্টের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ফেসবুক লিংকও সংযুক্ত করা হয়েছে। আবেদনকারীর অভিযোগ, এসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পানি সম্পদমন্ত্রী ও লক্ষ্মীপুরের সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্য এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও মিথ্যা-বানোয়াট তথ্য প্রচার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। ভিডিওতে যে ধরনের বেড দেখা যাচ্ছে, সে ধরনের বেড তাঁদের হাসপাতালে নেই বলে দাবি করেন তিনি। জিডির আবেদন প্রসঙ্গে তাঁর ভাষ্য, ভিডিওতে মন্ত্রীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলেই এ ধরনের আবেদন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসির সরকারি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে থাকার কথা জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে ভিডিওটি ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভিডিওটি যদি লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের না হয়, তাহলে সেটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে এবং কারা তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছেন—তা শনাক্ত করা জরুরি। একইভাবে ভিডিওর সত্যতা যাচাই না করে সেটিকে মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলারও সুযোগ নেই।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে অসংখ্য রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। এমন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। হাসপাতালের ওয়ার্ড, রোগীদের শয্যা ও আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার হলে আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালের সেবার মান, পরিচ্ছন্নতা ও অনিয়ম নিয়ে জনস্বার্থে প্রশ্ন তোলাও নাগরিকদের অধিকার। তাই বিষয়টিকে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিতর্কে সীমাবদ্ধ না রেখে ভিডিওটির উৎস ও সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি উঠেছে, ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হোক। পাশাপাশি জিডিতে উত্থাপিত অভিযোগও তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে তুলে ধরা হোক।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন