Header
প্রিন্ট তারিখঃ নভেম্বর ৫, ২০২৬ , ১:৪৪ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ নভেম্বর ৫, ২০২৬ , ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

একটি জাতির পুনর্জন্মের সন্ধিক্ষণঃ সংহতির রাজনীতি থেকে রাষ্ট্র-পুনর্গঠন

লেখকঃ প্রফেসর ড. শেখ আসিফ এস. মিজান

১. একটি জাতির পুনর্জন্মের সন্ধিক্ষণ: সংকট ও রাষ্ট্র-সংগঠন

প্রতিটি জাতির ইতিহাসে কিছু দিন কেবল ক্যালেন্ডারের পাতায় একটি নির্দিষ্ট তারিখে সীমাবদ্ধ থাকে না; সেগুলো পরিণত হয় জাতীয় স্মৃতি, রাজনৈতিক পুনর্গঠন এবং সামষ্টিক আত্মপরিচয়ের সন্ধিবিন্দুতে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের জন্য ঠিক তেমনই এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সামরিক-বেসামরিক জনতা সেদিন এক অভূতপূর্ব সংহতির মাধ্যমে রাষ্ট্রকে অরাজকতা, প্রাতিষ্ঠানিক শূন্যতা ও সার্বভৌমত্বের সংকট থেকে রক্ষা করে।

রাষ্ট্র-গঠন তত্ত্বের (State-Building Theory) আলোকে একটি নবগঠিত বা সংকটকবলিত রাষ্ট্রের টিকে থাকা মূলত তিনটি মৌলিক উপাদানের ওপর নির্ভর করে: ১. সার্বভৌমত্বের কার্যকর প্রতিরক্ষা ও ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তা, ২. প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি (Institutional Capacity Building) ও আইনের শাসন, এবং ৩. জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সামাজিক চুক্তি (Social Contract) পুনর্নির্মাণ।

এই তাত্ত্বিক কাঠামোর প্রেক্ষাপটে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কেবল একজন সামরিক কমান্ডার বা রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামের সশস্ত্র ঘোষণা থেকে শুরু করে যুদ্ধোত্তর বিধ্বস্ত রাষ্ট্র-পুনর্গঠন ও আধুনিক দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতির এক অন্যতম রূপকার। ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে তাঁর কণ্ঠে প্রচারিত স্বাধীনতার ঘোষণা বিভ্রান্ত ও নেতৃত্বহীন মুহূর্তে মুক্তিযুদ্ধে একটি প্রাতিষ্ঠানিক গতি সৃষ্টি করে। সামরিক নেতৃত্ব ও জনআকাঙ্ক্ষার এই বিরল মেলবন্ধন পরবর্তীকালে তাঁর রাষ্ট্রচিন্তায় প্রতিফলিত হয়।

২. ৭ নভেম্বর: বিভাজন পেরিয়ে সেনা-জনতার তাত্ত্বিক সংহতি

১৯৭৫ সালের প্রথমার্ধের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতির ক্রান্তিকাল ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা বাংলাদেশকে এক গভীর রাষ্ট্রীয় সংকটে ফেলেছিল। ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দেখা প্রয়োজন।

সমাজবিজ্ঞানী এন্টনি গিডেন্সের “জাতি-রাষ্ট্র ও সহিংসতা” (The Nation-State and Violence) তত্ত্ব অনুযায়ী, রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক নেটওয়ার্ক এবং সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সংহতি আবশ্যক। ৭ নভেম্বরের ঘটনাটি ছিল সশস্ত্র বাহিনী এবং সাধারণ জনগণের সেই ঐতিহাসিক ঐক্য, যা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকট দূর করে রাষ্ট্রকে একটি সুনির্দিষ্ট আইনি ও শাসনতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন।

৩. অর্থনৈতিক রূপান্তর: রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত সামঞ্জস্য (Structural Adjustment) ও মুক্তবাজার

বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর শাসনামলের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল অর্থনীতির দর্শনে এক আমূল পরিবর্তন আনা। ১৯৭৫-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির গতিহীনতা ও সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠলে, তিনি সাহসের সঙ্গে বেসরকারি খাতের বিকাশ, উন্নয়ন নীতিতে বাজারভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের দুয়ার উন্মুক্ত করেন।

নতুন শিল্প নীতি (১৯৭৫): ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বরে ঘোষিত শিল্প নীতির মাধ্যমে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগসীমা বাড়ানো হয়, বড় শিল্পে বেসরকারি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয় এবং বন্ধ হয়ে থাকা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে পুনরায় সক্রিয় করা হয়।

প্রবৃদ্ধি ও বেসরকারি খাত: ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ সালের মধ্যবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি নতুন প্রবৃদ্ধি-পর্বের সূচনা হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত খাতনির্ভর অর্থনীতি থেকে মুক্তবাজার অর্থনীতির দিকে এই রূপান্তর আধুনিক বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত ও বেসরকারি উদ্যোক্তা সংস্কৃতি বিকাশের ভিত্তি স্থাপন করে।

সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির তাত্ত্বিক সংশ্লেষে এই নীতিগুলো ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যা বাংলাদেশকে পরনির্ভরশীলতা থেকে স্বাবলম্বিতার দিকে পরিচালিত করে।

৪. কৃষি বিপ্লব: খাদ্য নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ

অর্থনৈতিক উন্নয়ন তত্ত্বের (Development Theory) মূল কথা হলো—উন্নয়নকে স্থায়ী করতে হলে প্রধান অর্থনৈতিক শক্তিকে সক্রিয় করতে হবে। কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গণ্য করতেন।

খাল খনন কর্মসূচি: তাঁর সরাসরি অংশগ্রহণে দেশব্যাপী ১,৫০০-রও বেশি খাল খনন ও পুনঃখনন করা হয়। এই সমন্বিত সেচভিত্তিক কাঠামোর ফলে ১৯৭৬-৭৭ এবং ১৯৭৭-৭৮ অর্থবছরে খাদ্যশস্য উৎপাদনে যুগান্তকারী প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়।

সংগ্রহ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা: ১৯৮০-৮১ অর্থবছরে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান-চাল ক্রয়ের নীতি গৃহীত হয়, যেখানে প্রায় ১.০৩ মিলিয়ন টন চাল সরকারিভাবে সংগৃহীত হয়। এই পদক্ষেপটি খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়ায়।

৫. বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা

সুশাসনের আধুনিক ধারণায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা কেবল কেন্দ্রীয় প্রশাসনে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়; বরং তা তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত প্রসারিত হতে হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এটি অনুধাবন করে গ্রাম সরকার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) গঠন করেন।

গ্রাম সরকার: স্থানীয় শাসন প্রক্রিয়ায় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়।

গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি): এটি ছিল স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং রাষ্ট্রের উন্নয়নমূলক কাজে গ্রামীণ জনগণকে সরাসরি যুক্ত করার এক উদ্ভাবনী প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ।

এই প্রশাসনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ক্ষমতাকে রাজধানীর কেন্দ্রস্থল থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৬. বহুদলীয় গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক বহুত্ববাদ (Political Pluralism)

১৯৭৫-পরবর্তী রাজনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক অঙ্গনে গুণগত পরিবর্তন আনেন। তিনি একদলীয় কাঠামোর জায়গায় রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম, মুক্ত আলোচনা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পথ সুগম করেন।

রাজনৈতিক বহুত্ববাদের তত্ত্ব (Theory of Pluralism) অনুসারে, একটি টেকসই গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন, বাকস্বাধীনতা এবং একাধিক রাজনৈতিক আদর্শের উপস্থিতি। তাঁর নেতৃত্বেই দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল পুনরায় আত্মপ্রকাশ করার এবং মতামত প্রকাশের সুযোগ পায়, যা শাসন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক সহনশীলতা বৃদ্ধি করে।

৭. আঞ্চলিক কূটনীতি ও সার্ক (SAARC): নব্য-আঞ্চলিকতাবাদের সূচনা

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অর্থনীতির (IPE) দৃষ্টিকোণ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর সবচেয়ে দূরদর্শী অবদান ছিল দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারণা প্রবর্তন।

সার্কের প্রস্তাবনা: ১৯৮০ সালের মে মাসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশের জন্য একটি যৌথ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রস্তাব দেন। তাঁর এই ঐতিহাসিক উদ্যোগের ফলেই পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে সার্ক (SAARC)-এর আত্মপ্রকাশ ঘটে।

আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন: বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৎকালীন বিশ্ব রাজনীতি ও স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনার মাঝে ছোট-বড় দেশকে সমান মর্যাদায় এক টেবিলে বসানোর এই প্রজ্ঞা ছিল বিশ্বমানের রাষ্ট্রনায়কোচিত দৃষ্টিভঙ্গির প্রমাণ।

তিনি বিশ্বাস করতেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য, জলবায়ু, যোগাযোগ ও যৌথ সম্পদের সুষম ব্যবহারের মাধ্যমেই কেবল অঞ্চলের জনগণের সুসংহত জীবনমান নিশ্চিত সম্ভব।

৮. ঐতিহাসিকভাবে উপেক্ষিত কিছু তাত্ত্বিক ও গবেষণামূলক দিক

ইতিহাসের নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়নে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর শাসনামলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পূর্বে পর্যাপ্ত তাত্ত্বিক পর্যালোচনার সুযোগ পায়নি:

১. সামাজিক সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক বৈষম্য: বাজারভিত্তিক পুনর্গঠনের পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষার দীর্ঘমেয়াদী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো কেমন হওয়া উচিত ছিল, তা নিয়ে আরও গভীর গবেষণার সুযোগ রয়েছে। ২. তৃণমূল প্রতিষ্ঠানের স্থায়িত্ব: গ্রাম সরকার ও খাল খননের সামাজিক প্রভাব এবং এসব প্রতিষ্ঠানের শাসনতান্ত্রিক টেকসই ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা আবশ্যক। ৩. জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের (NAM) সুষম ব্যবহার: স্নায়ুযুদ্ধের দ্বি-মেরুকেন্দ্রিক বিশ্বে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে সার্বিক ভারসাম্য বজায় রেখে অর্থনৈতিক সুবিধা আদায়ের কৌশল হিসেবে গড়ে তোলার তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

উপসংহার: রাষ্ট্র-পুনর্গঠনের অসমাপ্ত পাঠ

৭ নভেম্বর কেবল একটি ঐতিহাসিক স্মরণ নয়; এটি জাতীয় পুনর্গঠন, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের এক বাস্তবমুখী রাজনৈতিক দর্শন। বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তাঁর বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি এবং জনমুখী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, রাষ্ট্র পরিচালনার মূল শক্তি নিহিত থাকে জনগণ ও রাষ্ট্রের যৌথ সংহতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার মধ্যে।

বর্তমান বাংলাদেশে যখন পুনরায় অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং দক্ষ সুশাসনের প্রশ্নটি সামনে এসেছে, তখন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর রাষ্ট্রচিন্তা ও রূপরেখা আমাদের জন্য এক প্রাসঙ্গিক ও প্রজ্ঞাপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

লেখকঃ প্রফেসর ড. শেখ আসিফ এস. মিজান
উপাচার্য, দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয়, সোমালিয়া; অপরাধবিজ্ঞান, সুশাসন ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন