পেঁপে পুষ্টিকর ও সহজলভ্য একটি ফল। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফাইবার ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে পাকা পেঁপে খেলে হজমে সহায়তা পাওয়া যায়। পাশাপাশি চোখ ও ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতেও এটি ভূমিকা রাখে।
তবে বাজার থেকে পেঁপে কিনে অনেক সময় দেখা যায়, বাইরে দেখতে বেশ পাকা হলেও ভেতরে স্বাদ নেই। কোনোটি আবার অতিরিক্ত নরম কিংবা পানসে হয়ে যায়। তাই শুধু রং দেখে পেঁপে কেনা ঠিক নয়। মিষ্টি ও ভালো মানের পাকা পেঁপে বেছে নিতে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।
পেঁপের গায়ের রং দেখুন
মিষ্টি পাকা পেঁপে চেনার অন্যতম উপায় হলো এর খোসার রং। সাধারণত ভালোভাবে পাকা পেঁপের গায়ে হলুদ, সোনালি কিংবা হালকা কমলা রং দেখা যায়। ফলের বেশির ভাগ অংশে এমন রং থাকলে সেটি পাকার ভালো লক্ষণ।
অন্যদিকে, পেঁপের গায়ে যদি অনেকটা সবুজ রং থাকে, তাহলে সেটি পুরোপুরি পাকেনি। তবে সামান্য সবুজ ভাব থাকলেও সমস্যা নেই। ঘরে রেখে কয়েক দিন পর সেটি পাকতে পারে। খেয়াল রাখবেন, খোসায় অস্বাভাবিক কালো দাগ বা ছত্রাকের চিহ্ন যেন না থাকে।
হাতে নিয়ে হালকা চাপ দিন
পেঁপে কেনার সময় আঙুলের ডগা দিয়ে খুব আলতো করে চাপ দিয়ে দেখুন। ভালো পাকা পেঁপে সামান্য নরম হবে। চাপ দিলে একটু দেবে গেলেও আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।
যদি পেঁপে একেবারে শক্ত হয়, তাহলে সেটি কাঁচা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার অতিরিক্ত নরম হলে কিংবা আঙুলের চাপে গর্ত তৈরি হয়ে গেলে বুঝতে হবে ফলটি বেশি পেকে গেছে। এমন পেঁপে দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বোঁটার অংশ ভালোভাবে পরীক্ষা করুন
পেঁপের বোঁটার আশপাশ দেখেও এর অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। বোঁটার অংশে অতিরিক্ত কালচে দাগ, পচন কিংবা ছত্রাক থাকলে সেই ফল এড়িয়ে চলুন।
বোঁটার কাছে সামান্য আঠালো ভাব থাকা স্বাভাবিক হতে পারে। তবে অতিরিক্ত সাদা কষ, দুর্গন্ধ বা পচনের লক্ষণ থাকলে পেঁপেটি না কেনাই ভালো। শুধু কষের উপস্থিতি দেখে পেঁপে কৃত্রিমভাবে পাকানো হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
পেঁপের গন্ধ শুঁকে দেখুন
পাকা পেঁপের একটি স্বাভাবিক মিষ্টি ও হালকা ফলের সুবাস থাকে। বিশেষ করে বোঁটার কাছাকাছি নাক নিয়ে গেলে এই গন্ধ পাওয়া যেতে পারে।
যদি কোনো গন্ধ না থাকে, তাহলে পেঁপেটি পুরোপুরি নাও পাকতে পারে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত তীব্র, টক বা পচা গন্ধ পাওয়া গেলে সেটি বেশি পেকে যাওয়া কিংবা নষ্ট হওয়ার লক্ষণ হতে পারে।
পেঁপের খোসায় দাগ আছে কিনা দেখুন
কেনার আগে পেঁপের পুরো শরীর ভালোভাবে পরীক্ষা করুন। ছোটখাটো দাগ থাকতেই পারে, তবে বড় কালো দাগ, ফাটল, ছিদ্র কিংবা থেঁতলে যাওয়া অংশ থাকলে এড়িয়ে চলুন।
এ ধরনের ক্ষত দিয়ে জীবাণু প্রবেশ করতে পারে এবং ফল দ্রুত নষ্ট হতে পারে। বিশেষ করে খোসার কোনো অংশ ভেজা বা পিচ্ছিল মনে হলে সতর্ক থাকুন।
আকার এবং ওজনের দিকে নজর দিন
একই আকারের দুটি পেঁপের মধ্যে যেটি হাতে তুলনামূলক ভারি মনে হবে, সেটিতে সাধারণত পানির পরিমাণ ভালো থাকতে পারে। তবে শুধু ওজন দিয়ে মিষ্টি নির্ধারণ করা যায় না।
পেঁপের গায়ে অস্বাভাবিক ফোলাভাব, চাপের দাগ কিংবা অসম আকৃতি থাকলে সেটিও পরীক্ষা করে নিন। স্বাভাবিক আকৃতির, অক্ষত ও ভালোভাবে পাকা ফল বেছে নেওয়াই ভালো।
কেনার পর পেঁপে ভালো রাখবেন যেভাবে
পেঁপে কেনার পর সেটি কতটা পাকা, তার ওপর সংরক্ষণের পদ্ধতি নির্ভর করে—
- কাঁচা বা আধাপাকা পেঁপে ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে পাকাতে পারেন।
- পুরোপুরি পাকা পেঁপে ফ্রিজে রাখলে কিছুদিন ভালো থাকে।
- কাটা পেঁপে পরিষ্কার ঢাকনাযুক্ত পাত্রে রেখে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন।
- পেঁপে কাটার আগে পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
- অতিরিক্ত পাকা, দুর্গন্ধযুক্ত বা ছত্রাক পড়া পেঁপে খাবেন না।
- পেঁপের রং, গন্ধ, স্পর্শ ও বোঁটার অবস্থা—সবকিছু মিলিয়ে বিচার করাই ভালো ফল বেছে নেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। শুধু দেখতে সুন্দর হলেই
- পেঁপে মিষ্টি হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
আজকালের কন্ঠ/আর বি