যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৫১ জন রেকর্ডসংখ্যক মুসলিম আমেরিকান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে ১১ জন কংগ্রেসের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। বাকি ৩৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অঙ্গরাজ্যের আইনসভা, কাউন্টি ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পদে। প্রার্থীদের বেশিরভাগই ডেমোক্র্যাট দলের।
এবার সবচেয়ে বেশি নজর মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী, চিকিৎসক ও ডেট্রয়েটের সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবদুল এল-সায়েদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রিপাবলিকান দলের সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্স।
নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার গৌরব অর্জন করবেন এল-সায়েদ। প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনেও লড়ছেন পরিচিত মুসলিম রাজনীতিক ইলহান ওমর, রাশিদা তালিব ও আন্দ্রে কারসন। পাশাপাশি প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী হয়ে মূল নির্বাচনে জায়গা করে নিয়েছেন বেশ কয়েকজন নতুন মুসলিম প্রার্থী।
তবে এবারের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের ধর্মীয় পরিচয়ও রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। মিশিগানের প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদকে ‘জিহাদি’ আখ্যা দিয়ে আক্রমণ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
তার বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগও তুলেছেন ট্রাম্প। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এল-সায়েদ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনেও মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে তার সম্পর্কের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (কেয়ার) ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ২৬টি অঙ্গরাজ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচিত মুসলিম কর্মকর্তা রয়েছেন অন্তত ২৫৫ জন। তাদের মধ্যে ১১০ জন নারী।
এবারের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীরা কতটা সাফল্য পান, বিশেষ করে আবদুল এল-সায়েদ সিনেট নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়তে পারেন কি না, সেদিকেই এখন নজর ভোটারদের। তাদের সাফল্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলিম আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্ব আরও বাড়ানোর পথ তৈরি করতে পারে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি