সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাকি সাত বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৩৬ নম্বর ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরে সেগুলো নেওয়া হবে নিহতদের নিজ নিজ গ্রামের বাড়ি নওগাঁ ও নাটোরে।
নিহত সাতজনের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার চারজন, নওগাঁ সদর উপজেলার একজন এবং নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার দুজন রয়েছেন। তাঁদের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর খবরে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটলেও পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
গত ৯ আগস্ট ২০২৬ সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন। দুর্ঘটনার পর প্রথম পর্যায়ে নয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত ২৭ আগস্ট তাঁদের মরদেহ দেশে আনা হয়।
অন্যদিকে, অগ্নিকাণ্ডে বাকি সাতজনের মরদেহ মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া নিহত সাত বাংলাদেশি হলেন- নওগাঁ সদর উপজেলার মো. শাহিন, আত্রাই উপজেলার মো. হাসিবুল হাসান শুভ, মিনহাজ প্রামাণিক, মো. মাসিদুল সরদার সজিব ও মো. সাগর আলী এবং নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মোহাম্মদ শামীম ও মো. সাব্বির হোসেন।
দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে সব ধরনের ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় মরদেহগুলো দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। প্রথমে সড়কপথে মরদেহগুলো রিয়াদ থেকে জেদ্দায় নেওয়া হয়। পরে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে ঢাকায় পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, সৌদি আরবের ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জনই নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বাসিন্দা। প্রথম দফায় সাতজন এবং দ্বিতীয় দফায় বাকি চারজনের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে আত্রাইয়ের ১১ পরিবারের প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হলো। তবে এই ফিরে পাওয়া আনন্দের নয়, বরং স্বজন হারানোর গভীর বেদনার।
আজকালের কন্ঠ/আর বি