Header
প্রিন্ট তারিখঃ অক্টোবর ২৯, ২০২৬ , ৪:৪৮ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ অক্টোবর ২৯, ২০২৬ , ৪:০৬ অপরাহ্ণ

উন্নয়নের নামে ‘বাঁশের রাজনীতি’ হয়েছে, এবার চাই টেকসই সড়ক: নাদিয়া পাঠান এমপি

লেখকঃ মোঃ ইসমাইল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি

উন্নয়নের নামে বিগত সরকারের আমলে অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ তুলে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন বলেছেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আমরা দেখেছি, উন্নয়নের নামে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। সমগ্র জাতিকে যেন বাঁশের ওপর বসিয়ে রাখা হয়েছিল। ডিজিটাল বাংলাদেশের নামে আমরা ডিজিটাল চুরি ও দুর্নীতির মহোৎসব দেখেছি। এবার জনগণকে প্রতিশ্রুতি নয়, দৃশ্যমান ও টেকসই উন্নয়ন উপহার দিতে হবে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই (আর-২২০) আঞ্চলিক মহাসড়কের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাদিয়া পাঠান পাপন বলেন, আমরা ক্যাসিনোকাণ্ড দেখেছি, হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দেখেছি। উন্নয়নের নামে এমন সব প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যেগুলোর সুফল সাধারণ মানুষ কতটা পেয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সড়ক নির্মাণের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও অনেক জায়গায় মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। কোথাও নিম্নমানের কাজ, কোথাও অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় নির্মিত সড়ক যদি কয়েক বছরও টেকসই না হয়, তাহলে সেই উন্নয়নের দায় কে নেবে?

তিনি আরও বলেন, সড়ক শুধু ইট-পাথর আর বিটুমিনের একটি অবকাঠামো নয়; সড়ক মানুষের জীবন, জীবিকা ও অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত। একটি ভালো সড়ক কৃষকের উৎপাদিত পণ্য দ্রুত বাজারে পৌঁছে দেয়, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ করে, রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটায়। তাই সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কের নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা নিম্নমানের কাজ যেন এই প্রকল্পকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

সংসদ সদস্য বলেন, জনগণ আমাদের কাছে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি শুনতে চায় না, উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে চায়। আমরা এমন উন্নয়ন চাই, যার সুফল আগামী প্রজন্মও পাবে। রাস্তা নির্মাণে বরাদ্দ করা প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। কারণ, উন্নয়নের প্রকৃত মানদণ্ড কোনো ফলক কিংবা ব্যানার নয়; সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তনই হচ্ছে উন্নয়নের আসল পরিচয়।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিসুল ইসলাম ঠাকুর, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান লস্কর তপু, সিনিয়র সহ-সভাপতি আশরাফুল করিম রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক দুলাল মোহাম্মদ আলী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরমান উদ্দিন, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব জিল্লুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা মাখন মিয়া, উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক শাহ আলম, সদস্যসচিব শামসুদ্দিন, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মীর ওয়ালিদ এবং উপজেলা তাঁতি দলের সদস্যসচিব কামরুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কের নির্মাণকাজ বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও যোগাযোগব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। তবে প্রকল্পের সুফল নিশ্চিত করতে নির্মাণকাজের গুণগত মান বজায় রাখা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করাই হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

প্রিন্ট করুন