শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে এক দুঃসাহসিক ও বর্বর হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে স্থানীয় মারুফ ও সাজ্জাদ নামের দুই যুবক । উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের চর কোড়ালতলী এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় লিডার মারুফ ও সাজ্জাদের নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জনের একটি দল দেশিয় অস্ত্র সহ মোঃ আলী পেদার বসতবাড়িতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর এবং লুটপাট চালায়। হামলায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ একই পরিবারের ৫ জন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।
অভিযুক্ত মারুফ একই গ্রামের আলম চান উকিলের ছেলে এবং সাজ্জাদ ওলিউল্লাহ হাওলাদারের ছেলে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তারা উভয়েই মাদকাসক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আসছিল।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার মূল সূত্রপাত ঘটে গত ২৩ অক্টোবর। ওইদিন আসলাম পেদা নামের এক যুবক তার বাড়ির কাছের একটি ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছিলেন। এ সময় লিডার মারুফ ও সাজ্জাদ তাকে সিগারেট খেতে নিষেধ করে এবং উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মারুফ ও সাজ্জাদ আসলামকে বেদম মারধর করে।
সাজ্জাদের পরিবারের দাবি, ব্রিজের ওপর মারধরের জেরে পরের দিন (২৪ অক্টোবর) দুপুরে মারুফ যখন আসলামদের বাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন আসলাম তাকে পাল্টা মারধর করেন। পরে মারুফ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সাজ্জাদ সহ ৩০-৩৫ জনের দলবল নিয়ে এসে আসলামের বৃদ্ধ বাবা মোঃ আলী পেদাকে পিটিয়ে আহত করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হলে উভয় পক্ষই ভেদরগঞ্জ থানায় পাল্টা-পাল্টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
থানায় অভিযোগ দায়েরের পর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অভিযুক্ত মারুফ ও সাজ্জাদ এবং ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে তাদের দলবল নিয়ে আকস্মিকভাবে মোঃ আলী পেদার বাড়িতে চড়াও হয়। হামলাকারীরা মোঃ আলী পেদার দুটি বসতঘরে ঢুকে রামদা, লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর শুরু করে। ঘরের ভেতরের আলমারি ও মূল্যবান আসবাবপত্র ভেঙে তছনছ করা হয়।
এ সময় বাধা দিতে গেলে ঘরে থাকা নারী ও বৃদ্ধদের ওপর নারকীয় হামলা চালায় তারা। অভিযুক্ত মারুষ ও সাজ্জাদের দলবলের এই বর্বর হামলায় গুরুতর আহত হন: মোঃ আলী পেদা (৬৫) – আসলামের বৃদ্ধ পিতা, মনোয়ারা বেগম (৬৫), কামরুন নাহার (৩৮), জুমুর (৩৮) – তিনি একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী, আসলাম (২২) – যার ওপর প্রথম হামলা হয়েছিল।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ভাঙচুর ও মারধরের এক পর্যায়ে হামলাকারীরা ঘরে থাকা স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। আহতদের আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা জানে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন।
এই ন্যাক্কারজনক হামলার পর থেকে চর কোড়ালতলী এলাকায় চরম উত্তেজনা ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এই মাদকাসক্ত ও অভিযুক্ত মারুফ, সাজ্জাদসহ হামলায় জড়িত সকল অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার বলেন, চর কোড়ালতলী এলাকার মারামারি ঘটনায় আমরা দু’পক্ষের নিকট থেকেই লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। উক্ত ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।