দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা চললেও মশারি ব্যবহারে অনীহার অভিযোগ উঠেছে কিছু রোগীর বিরুদ্ধে। চিকিৎসকদের পরামর্শ উপেক্ষা করে মশারি ছাড়াই ঘুমানোর কারণে আক্রান্ত রোগীদের পাশাপাশি অন্যদেরও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জুন থেকে এ পর্যন্ত ঘোড়াঘাটে মোট ১০৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৬ জন, সেপ্টেম্বর মাসে ৩৮ জন এবং চলতি অক্টোবর মাসে ৪৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা নার্সরা জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মশারির মধ্যে রাখার ব্যবস্থা করা হলেও অনেকেই মশারি সরিয়ে ঘুমান। বারবার পরামর্শ দেওয়ার পরও কেউ কেউ নিয়ম মেনে চলছেন না। এতে মশার কামড়ের ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে এবং ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধের প্রচেষ্টা ব্যাহত হতে পারে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) প্রিয়াঙ্ক কুন্ডু বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলার পাশাপাশি মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মশারির ভেতরে থাকা এবং আশপাশে মশার বংশবিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ঘোড়াঘাটে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনসাধারণকে সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদেরও নিয়ম মেনে চলতে হবে, যাতে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করা সম্ভব হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।