Header
প্রিন্ট তারিখঃ অক্টোবর ২৬, ২০২৬ , ৫:০০ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ অক্টোবর ২৬, ২০২৬ , ২:৩৪ অপরাহ্ণ

মানিক পশারীর দাফনে বাধা নয়, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে ‘গার্ড অব অনার’ নিয়ে আপত্তি ছিল : এমপি মাসুদ সাঈদী

লেখকঃ পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি:

যুদ্ধাপরাধ মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর দাফন কিংবা জানাজায় কোনো বাধা ছিল না বলে জানিয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। তবে একজন কথিত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান নিয়ে আপত্তি ছিল বলে তিনি দাবি করেছেন।

রোববার (২৫ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেয়া এক পোস্টে মাসুদ সাঈদী এসব কথা বলেন।

মাসুদ সাঈদী বলেন, ‘মানিক পশারীর জানাজা বা দাফন নিয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য বা বাধা ছিল না, নেইও। আপত্তি ছিল একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদান নিয়ে।’তিনি আরও দাবি করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি এবং পিরোজপুর প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করেছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও দলীয়ভাবে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে কাজ করেছে।

ফেসবুক পোস্টে মাসুদ সাঈদী দাবি করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জেরার সময় মানিক পশারী সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার কথা অস্বীকার করেছিলেন। মানিক পশারী নিজ মুখে স্বীকার করেছেন তিনি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করেননি তবে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছেন।

এ কারণে তৎকালীন সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়াল তার নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি ডিও লেটার দিয়েছিলেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

মাসুদ সাঈদীর অভিযোগ, মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং সরকারি ভাতা দেয়ার পেছনে অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করা প্রয়োজন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, যাচাই-বাছাই কমিটি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।

একই সঙ্গে মানিক পশারীর নাম মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট থেকে বাতিল এবং তাকে দেয়া রাষ্ট্রীয় সুবিধা ও ভাতা বন্ধের দাবিও জানান তিনি। এ ছাড়া এ কে এম এ আউয়ালের বিরুদ্ধেও তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি। তার মতে, এ ধরনের ঘটনা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের প্রতি অসম্মান এবং মহান স্বাধীনতার অবমাননার সামিল।

উল্লেখ্য যে,শুক্রবার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মৃত্যুর পর ১৭ ঘণ্টা পর শনিবার গভীর রাতে পুলিশি নিরাপত্তায় পিরোজপুর সদরের চিতলিয়া গ্রামে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

প্রিন্ট করুন