Header
প্রিন্ট তারিখঃ অক্টোবর ১৭, ২০২৬ , ৩:৩৫ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ অক্টোবর ১৭, ২০২৬ , ১:৪০ অপরাহ্ণ

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে মানতে হবে ৫ নিয়ম

লেখকঃ লাইফস্টাইল ডেস্ক

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা পরিচিত একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় পাকস্থলির ভেতরের আস্তরণে প্রদাহ হওয়াকে বলা হয় গ্যাস্ট্রাইটিস। বিভিন্ন কারণে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি গুরুতর না হলেও চিকিৎসা না করালে দীর্ঘদিন ভোগাতে পারে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে জটিলতার ঝুঁকিও বাড়ে।

গ্যাস্ট্রাইটিসের লক্ষণ

গ্যাস্ট্রাইটিসে আক্রান্ত অনেকের কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। আবার কারও কারও ক্ষেত্রে বদহজম, পেটে কামড়ানো বা জ্বালাপোড়া, বমি বমি ভাব, বমি এবং খাবার খাওয়ার পর পেট ভরা ভরা লাগতে পারে। পাকস্থলির আস্তরণ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ব্যথা ও রক্তপাতও হতে পারে।

লক্ষণগুলো হঠাৎ তীব্রভাবে দেখা দিতে পারে, আবার দীর্ঘদিন ধরে ধীরে ধীরেও বাড়তে পারে।

কেন হয় গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা?

গ্যাস্ট্রাইটিসের অন্যতম কারণ হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি নামের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। এ ছাড়া ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান, নিয়মিত অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেনের মতো ব্যথানাশক ওষুধ সেবন এবং গুরুতর অসুস্থতা, আঘাত বা বড় অস্ত্রোপচারের শারীরিক চাপ থেকেও এ সমস্যা হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে পাকস্থলীর আস্তরণকে আক্রমণ করে প্রদাহ সৃষ্টি করে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

বদহজম বা পেটের অস্বস্তি এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে কিংবা তীব্র ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কোনো ওষুধের কারণে সমস্যা হচ্ছে বলে মনে হলেও চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। বমি বা পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া, কালচে পায়খানা কিংবা বমিতে কফির দানার মতো পদার্থ দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।

পেটব্যথা হলেই সেটিকে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। গ্যাস জমা বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমসহ বিভিন্ন কারণেও পেটব্যথা হতে পারে।

কী কী পরীক্ষা করা হয়?

রোগের কারণ নির্ণয়ে চিকিৎসক পায়খানা পরীক্ষা, হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি শনাক্তের শ্বাস পরীক্ষা কিংবা এন্ডোস্কোপি করার পরামর্শ দিতে পারেন। প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য পরীক্ষাও করা হতে পারে।

গ্যাস্ট্রাইটিসের চিকিৎসা

চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো পাকস্থলীর অ্যাসিড কমানো, আস্তরণ সেরে উঠতে সাহায্য করা এবং রোগের অন্তর্নিহিত কারণের চিকিৎসা করা। এ জন্য অ্যান্টাসিড, হিস্টামিন-২ ব্লকার বা প্রোটন পাম্প ইনহিবিটরজাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হয়। হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরির সংক্রমণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে নির্দিষ্ট সময় অ্যান্টিবায়োটিকের সঙ্গে অ্যাসিড কমানোর ওষুধ নিতে হয়।

উপসর্গ কমাতে করণীয়

গ্যাস্ট্রাইটিসের উপসর্গ কমাতে কয়েকটি অভ্যাস সহায়ক হতে পারে।

১. একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খাবার খান।

২. যেসব খাবারে সমস্যা বাড়ে, সেগুলো এড়িয়ে চলুন।

৩. অ্যালকোহল পান থেকে বিরত থাকুন।

৪. ধূমপান ছাড়ুন।

৫. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করুন।

ব্যথানাশক ওষুধ নিয়মিত সেবন করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

দীর্ঘদিন থাকলে কী জটিলতা হতে পারে?

দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস্ট্রাইটিসের কারণে কিছু ক্ষেত্রে পাকস্থলীতে আলসার, পলিপ এবং নির্দিষ্ট ধরনের পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই সমস্যা বারবার দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

মনে রাখতে হবে, গ্যাস্ট্রাইটিস ও গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস এক নয়। গ্যাস্ট্রাইটিস হলো পাকস্থলীর আস্তরণের প্রদাহ। অন্যদিকে, গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসে পাকস্থলী ও অন্ত্রের প্রদাহ হয়, যা প্রায়ই সংক্রমণের কারণে দেখা দেয়।

সূত্র: সহায়

প্রিন্ট করুন