যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা ইউক্রেনীয় সেনারা এখন তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। স্বজনদের সম্পর্কে জানতে কিয়েভে নিজ নিজ বাড়িতে ফোন করছেন তারা। অথচ আগে পরিবারের লোকজনই তাদের খোঁজ নিতেন।
কিয়েভ এখন যুদ্ধের একটি সম্মুখসারির শহরে পরিণত হয়েছে। সেখানে বসবাসকারী পিটার ডিকিনসন বিবিসিকে বলেন, ‘মূলত, এটি এখন যুদ্ধের ভৌগোলিকভাবে একেবারে সম্মুখভাগে অবস্থিত শহরগুলোর মতোই ঝুঁকিপূর্ণ, এমনকি তার চেয়েও বেশি বিপজ্জনক।’
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া ইউক্রেনের রাজধানীসহ অন্যান্য প্রধান শহরগুলোয় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে। স্কুল, হাসপাতাল, হোটেল, ডেটা সেন্টার, ট্রেন ও সেতুসহ বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ড্রোন হামলায় কিয়েভের কাছে দুটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরের দিন রাজধানীর সলোমিয়ানস্কি জেলায় একটি ড্রোন একটি স্কুল ভবনে হামলে পড়ে। অন্যদিকে ওডেসা অঞ্চলে একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র আক্রমণের শিকার হয়।
গত ৮ অক্টোবর কিয়েভ অঞ্চলের বুচা জেলায় একটি স্কুল ও কিন্ডারগার্টেনের প্রাঙ্গণে রাশিয়া একটি ড্রোন হামলা চালায়।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, এই বেসামরিক ভবনগুলো অস্ত্র তৈরি বা মজুতের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল। তারা কেবল সামরিক ও প্রতিরক্ষা-শিল্প স্থাপনাগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করে।
কিন্তু ইউক্রেনের পার্লামেন্ট কমিশনার ফর হিউম্যান রাইটস (স্বাধীন তদন্তকারী) দিমিত্রো লুবিনেৎস বলেছেন, রাশিয়ার হামলায় জানুয়ারি থেকে আগস্টের মধ্যে ১৫ হাজার ২৮০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত বা আহত হয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৫ শতাংশ বেশি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, গত সপ্তাহে রাশিয়ার অন্যতম ‘জঘন্য’ হামলায় শিশুসহ অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন।
২০২২ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ শুরু করার পর থেকে ইউক্রেনের শহরগুলোতে বোমা হামলা এই যুদ্ধের একটি নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাজ্যের সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফিলিপস ও’ব্রায়েন বিবিসিকে বলেন, ‘আমি এটাকে পরিবর্তন বলব না, বরং পরিস্থিতির অবনতি বলব।‘
কিন্তু মার্কিন গবেষণা সংস্থা আটলান্টিক কাউন্সিলের ইউক্রেন অ্যালার্ট ব্লগের সম্পাদক ডিকিনসন বলেছেন, এই সাম্প্রতিক হামলাগুলোর প্রকৃতি ভিন্ন এবং এখন দিন-রাত কিয়েভকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এটি জীবনের জন্য এক বিরাট হুমকি। এটি অত্যন্ত বিঘ্ন সৃষ্টিকারীও। কারণ এর ফলে স্কুল ও ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায় এবং এক ধরনের স্থায়ী অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।’
এই উত্তেজনা বৃদ্ধির সবচেয়ে লক্ষণীয় চিহ্নগুলোর মধ্যে একটি হলো ইউক্রেনের রাজধানীকে বিভক্তকারী দিনিপ্রো নদীর ওপরের সেতুগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা; যেগুলোকে ডিকিনসন ‘শহরের গুরুত্বপূর্ণ ধমনী’ বলে অভিহিত করেছেন।
নদীর ডান তীরে সরকারি দপ্তর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং রাজধানীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বেশির ভাগ অংশ অবস্থিত, আর বাম তীরে আবাসিক এলাকার প্রাধান্য।
এখানে কোনো সুড়ঙ্গ নেই, আছে শুধু সেতু, যেগুলোর ওপর দিয়ে শহরের মেট্রো ব্যবস্থা ও সড়কপথ চলে গেছে। আর প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ এই দুই তীরের মধ্যে যাতায়াত করে।
শীত আসছে
ডিকিনসন বলেন, রাশিয়ার ড্রোনগুলো সম্ভবত সেতুগুলোর মতো বড় স্থাপনা ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। তাই সেগুলোকে বন্ধ করতে বাধ্য করাই তাদের লক্ষ্য বলে মনে হচ্ছে। এই হামলাগুলোর সময়ও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
ডিকিনসন বলেন, যদি তাদের কাজ শুধু অবকাঠামো ধ্বংস করাই হতো, তাহলে তারা সহজেই তা গভীর রাতে বা ভোরের দিকে করতে পারত। এর প্রভাব হতো হুবহু একই, কিন্তু স্পষ্টতই তাতে মানুষের জীবনের কোনো ঝুঁকি থাকত না। কিন্তু তারা তা করছে না, তারা এটা করছে একেবারে ব্যস্ততম সময়ে।’
সত্যিই মনে হচ্ছে এটা একটা অত্যন্ত সুচিন্তিত নীতি। এই হামলাগুলোকে আনুষঙ্গিক ক্ষতি বা কোনোভাবে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু বলে ব্যাখ্যা করার কোনো বাস্তব উপায় নেই।
জেলেনস্কি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, ‘রুশরা আমাদের দখল করতে পারেনি। তাই এখন তারা ব্যাপক হামলা ও গণহত্যা চালাচ্ছে। আর অবশ্যই, তারা আমাদের সেতু, ডেটা সেন্টার, ইন্টারনেট, সেল নেটওয়ার্ক, হাসপাতাল, কিন্ডারগার্টেন, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়—সবকিছুর ওপর হামলা করতে চায়। তারা চায় মানুষ তাদের শহর ছেড়ে পালিয়ে যাক।’
তিনি আরও বলেন, গোয়েন্দা সংস্থা এবং পুতিনের ঘনিষ্ঠ কিছু সূত্র থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে, সেপ্টেম্বরের শুরুতে পুতিন বলেছিলেন, ‘এখন আর কোনো নিয়ম পালন নয়’।
ও’ব্রায়েন বলেন, জেলেনস্কি মনে করেন পুতিন ‘বিশেষ করে আসন্ন শীতকালকে সামনে রেখে ইউক্রেনকে সাধারণ মানুষের বসবাসের জন্য যথাসম্ভব অনুপযোগী করে তুলতে চান’।
আর এমন একটি দেশে, যেখানে তাপমাত্রা মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যায়, সেখানে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে গ্রিড থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিলে শহরগুলো তাপ ও পানি থেকে বঞ্চিত হবে এবং জীবনযাত্রা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
‘ভয় ছড়ান’
ও’ব্রায়েন বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে দেখলে, এর মূল উদ্দেশ্য হলো ইউক্রেন সরকারের ওপর এমন রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা; যাতে তারা রাশিয়ার ইচ্ছানুযায়ী একটি চুক্তিতে রাজি হয়। কিয়েভই প্রধান লক্ষ্য বলে মনে হচ্ছে। তবে ওডেসা, ভিভ, দিনিপ্রো ও খারকিভেও হামলা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ তারা যেখানে সম্ভব বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করতে চায়।’
এদিকে ডিকিনসন বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের ‘শহর ছেড়ে পালিয়ে যেতে’ উৎসাহিত করার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো ইউক্রেনীয়দের মনোবল ভেঙে দেওয়া।
তিনি মনে করেন, ‘এর ফলে এমন ধারণা তৈরি হয় যে সরকার অসহায়, সরকার জনগণকে রক্ষা করতে পারে না’ যা আত্মসমর্পণের আহ্বান বাড়িয়ে দেবে বলে রাশিয়া আশা করছে।’
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এক্স বার্তায় লিখেছেন, ‘রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে এমন সব জায়গায় হামলা চালাচ্ছে যেখানে তারা জানে মানুষ তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন করতে সময় কাটায়। এর উদ্দেশ্য হলো হতাহতের সংখ্যা বাড়ানো, ভয় ছড়ানো এবং ইউক্রেনীয় সমাজের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।’
কিন্তু আরও একটি উদ্দেশ্যও আছে।
ডিকিনসন বলেন, ‘মানুষ না থাকলে কারখানায় কাজ করা যায় না, দেশ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্রও উৎপাদন করা যায় না।’
সচল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং তাদের দেওয়া করের অর্থ ছাড়া সরকারের পক্ষে স্বনির্ভর থাকা কঠিন হবে।
অর্থনীতি ও পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী ওলেক্সান্দর ক্রাভচেঙ্কো বলেছেন, প্রতি ঘণ্টায় বিমান হামলার সতর্কতার কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে বাধ্য হওয়ায় ইউক্রেনের প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়।
তিনি বলেন, ‘মানুষ যদি বাংকারে থাকে, ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে যায়।’
আর ইউক্রেনকে এরই মধ্যে তার মিত্রদের কাছে আরও অর্থের জন্য অনুরোধ করতে হচ্ছে।
ডিকিনসন বলেন, রাশিয়া এখন এই হামলাগুলো বাড়ানোর আরেকটি কারণ হলো, তারা এটা করতে পারছে।
ইউক্রেনের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলাবারুদ প্রায় ফুরিয়ে এসেছে, যা ‘ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির বিরুদ্ধে একমাত্র প্রকৃত নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা’।
যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র দেশ যারা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে এগুলো উৎপাদন করে এবং ‘আমেরিকানরা ও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সহযোগীরা ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে মজুতের একটি বিশাল অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে’।
এদিকে ইউক্রেনীয় সামরিক বিশ্লেষক ওলেক্সান্ডার কোভালেঙ্কো বলেছেন, ‘শত্রুপক্ষ কোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন কমায়নি, কিংবা তাদের মজুতও নিঃশেষ করেনি। বরং, তারা তা বাড়িয়ে চলেছে।’
এ ছাড়া আগস্টের মাঝামাঝি থেকে রাশিয়া এক নতুন ধরনের জেটচালিত ড্রোন ব্যবহার করে আসছে, যার কোনো জবাব এই মুহূর্তে ইউক্রেনের কাছে নেই’।
দ্বিগুণ গতিতে, অনেক বেশি উচ্চতায় এবং আরও অত্যাধুনিক লক্ষ্য নির্ধারণ ও দিকনির্দেশনা সরঞ্জাম নিয়ে চলার কারণে, এই ড্রোনগুলোকে তাদের প্রপেলার-চালিত পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোর তুলনায় আটকানো অনেক বেশি কঠিন।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাত জানিয়েছেন, রাশিয়া আগস্ট মাসে ইউক্রেনে হামলা চালানোর জন্য ২ হাজার ৮৫০টি ড্রোন পাঠিয়েছিল। ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তারা আরও ৩ হাজার ১৭৭টি ড্রোন পাঠিয়েছিল।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা খাতের অন্যতম বৃহত্তম বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং গুগলের প্রাক্তন প্রধান এরিক শ্মিট স্বীকার করেছেন, রাশিয়া কত দ্রুত এই নতুন ড্রোনগুলোর মোতায়েন বাড়িয়ে দেবে, তা তারা অনুমান করতে পারেননি।
তিনি দ্য ইকোনোমিস্টকে বলেন, ‘রাশিয়া ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিষেবা (এসবিইউ) সদর দপ্তরের কেন্দ্রীয় জানালায় সরাসরি একটি ড্রোন হামলা করেছে। এই ব্যবস্থাগুলো কী করতে সক্ষম, এটি তারই একটি সতর্কবার্তা।’
জেলেনস্কি বলেছেন, ‘ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর বদৌলতে বর্তমানে জেটচালিত ড্রোন আটকানোর হার প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ এবং কখনও কখনও তা ৬০ শতাংশ পর্যন্তও পৌঁছায়।’
কিন্তু ইউক্রেন যখন এগুলোকে থামানোর জন্য নতুন উপায় নিয়ে কাজ করছে এবং ও’ব্রায়েনের মতে অগ্রগতিও করছে বলে মনে হচ্ছে—তখন রাশিয়া এত বেশি ক্ষেপণাস্ত্র পাঠায় যে, ৮০ শতাংশ ভূপাতিত করা হলেও প্রতি রাতে প্রচুর ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভেদ করবে।
ডিকিনসনও এ বিষয়ে একমত। তিনি বলেন, ‘বাস্তবিকভাবে সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতিতেও, এই হুমকিকে সত্যিকার অর্থে মোকাবিলা করার মতো অবস্থানে আসতে ইউক্রেনের এক বা দুই মাস সময় লাগবে।’
তবে শ্মিট আরও বলেন, ‘অন্তত পাঁচটি ইউক্রেনীয় কোম্পানি সমাধান তৈরি করেছে এবং সেগুলো পরীক্ষা করছে।’
ডিকিনসন বলেন, এই যুদ্ধ শুরু থেকেই একটি প্রযুক্তিগত অস্ত্র প্রতিযোগিতা, যেখানে কেউই চূড়ান্ত সুবিধা প্রতিষ্ঠা করতে পারছে বলে মনে হয় না। চ্যালেঞ্জটি শুধু প্রযুক্তি উদ্ভাবনই নয়, বরং তা বিপুল সংখ্যায় উৎপাদন করা এবং ব্যবহারের জন্য লোকজনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া।
কিন্তু রাশিয়ার বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর বিষয়টিও রণক্ষেত্রে তাদের অগ্রগতির অভাবের সঙ্গে ‘সরাসরি সম্পর্কিত’।
ডিকিনসন বলেন, মস্কো একটি দ্রুতগতির যুদ্ধের প্রত্যাশা করেছিল, অথচ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির আক্রমণের সূচনাস্থল থেকে হাঁটা পথের দূরত্বের মধ্যে থাকা গ্রামগুলোর জন্য সাড়ে চার বছর পরেও তারা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
রুশ সামরিক ব্লগাররা এক জটিল পরিস্থিতি এবং আটকা পড়ার কথা বলছেন। ডিকিনসন বলেন, ‘প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ মারা যাচ্ছে।’
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ, লোয়ি ইনস্টিটিউট এবং ইউএস মিলিটারি একাডেমির মডার্ন ওয়ার ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত অস্ট্রেলীয় জেনারেল মিক রায়ান বলেন, পুতিন এমন একটি ধারণা তৈরি করতে চান যে রাশিয়া উন্নতি করছে।
‘সন্ত্রাসী কৌশল’
ও’ব্রায়েন এতে একমত। তিনি বলেন, যেহেতু রাশিয়া অগ্রসর হচ্ছে না এবং তাদের নিজস্ব অর্থনীতিও ধুঁকছে, তাই বিমান হামলা হলো সেই ক্ষেত্র যেখানে তারা চাপ প্রয়োগ করতে পারে বলে মনে করে। কিন্তু এটি এমন কোনো রাষ্ট্রের কৌশল নয়, যারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে যুদ্ধ তাদের অনুকূলে যাচ্ছে।
দুটি ব্যতিক্রম ছাড়া যুদ্ধ জিততে পুতিন ‘যতটা প্রয়োজন’ ততটাই যাবেন, বলে মনে করেন ও’ব্রায়েন।
তিনি আশা করেন না যে, পুতিন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবেন। কারণ রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগী চীনও তা চায় না।
ডিকিনসন বলেন, কিয়েভ থেকে এখনো কোনো গণপ্রস্থান ঘটেনি, তবে পরিবারগুলো শীতের জন্য চলে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছে।
ডিকিনসন ‘সন্ত্রাসবাদ’ শব্দটি ব্যবহারে সতর্ক। তা-ও তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমার মনে হয়, এটিকে বর্ণনা করার আর কোনো উপায় নেই। এটা নির্ভেজাল সন্ত্রাসী কৌশল… মানুষকে অস্থির, বিচলিত এবং উদ্বিগ্ন রাখার জন্য। এবং এটি কাজ করছে।’
সূত্র: বিবিসি বাংলা