Header
প্রিন্ট তারিখঃ অক্টোবর ১৭, ২০২৬ , ২:৫৯ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ অক্টোবর ১৭, ২০২৬ , ১:০৫ অপরাহ্ণ

রাণীনগরে আম বাগানে হলুদ চাষে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন

লেখকঃ মোঃ রায়হানুল হক রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ

উত্তর বঙ্গের শস্য ভান্ডারখ্যাত নওগাঁর রাণীনগরে ধান, আমসহ অন্যান্য শাকসবজির পাশাপাশি কৃষি খ্যাতে এবার যোগ হয়েছে আম বাগানে হলুদ চাষের এক নতুন দিগন্ত। এতে কৃষিখাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হচ্ছে।

বিগত দিনে এই উপজেলায় হলুদ চাষে কৃষকদের তেমন আগ্রহ দেখা না গেলেও গোনা ইউনিয়নের ভবানীপুর ব্লকে এক প্রগতিশীল চাষি আম বাগানে আম গাছের ফাঁকে ফাঁকে পতিত জমিতে হলুদ চাষ করে অর্থনীতির নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। হলুদ চাষের অনূকুল আবহাওয়া থাকায় বাগানের ভিতরে হলুদের সবুজ পাতাগুলো বাতাসে দোল খাচ্ছে।

বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে এদেশের কৃষি। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া কৃষির জন্য খুবই উপযোগী হওয়ায় এই জেলায় প্রায় সব ধরণের ফসলই কৃষকরা উৎপাদন করে থাকে যা জাতীয় অর্থনীতিত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কৃষি বিভাগ বলছে, আম গাছের নিচে অনেকটা জায়গা পতিত অবস্থায় ছাঁয়াযুক্ত থাকে। আম গাছ লাগানোর পর পরই ফল আসেনা। তাই বছর খানিক অপেক্ষা করতে হয়। ফলে এই পতিত জমি ব্যবহার করার মাধ্যমে কৃষকরা সহজেই তাদের আয়ের একটি নতুন পথ পেতে পারে। এসব ছায়াযুক্ত স্থানে কৃষকরা হলুদ জাতীয় ফসল চাষাবাদ করতে পারে। মসলা হিসেবে হলুদ বাংলাদেশে খুবই জনপ্রিয়।

উপজেলার গোনা ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের প্রগতিশীল কৃষক জুলফিকার আলী জানান, আমি এই মৌসুমে প্রায় আড়াই বিঘা আম বাগানের জমিতে প্রথম বারের মতো হলুদ চাষ করেছি। নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার দেওলাবাড়ী এলাকার আমার এক বন্ধুর পরামর্শে ওই এলাকা থেকে ১৬শ’ টাকা প্রতি মন দরে প্রায় ১২ মন হলুদের চারা কিনে আমার আম বাগানে রোপণ করি। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবং আবহাওয়া ভালো থাকায় হলুদ গাছগুলো ভালো আছে। বর্তমানে গাছগুলোর বয়স আড়াই মাস চলছে। আশাকরি আর ৬মাস পর আমি হলুদ তুলতে পারবো। হলুদ চাষে তেমন কোন পরিচর্যা করতে হয় না। রোগবালাইও তেমন নেই। আশানূরুপ ফলন হলে প্রথমবারই লাভের মুখ দেখবো বলে আমি আশা করছি।

উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি অফিসার জাহিদুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে রাণীনগরের ৮টি ইউনিয়নে প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে হলুদ চাষ হয়েছে। আমাদের প্রগতিশীল চাষি জুলফিকার আলী তার আম বাগানে হলুদ চাষ করছে। আমরা নিয়মিত তাকে কারিগরি পরামর্শ দিয়ে আসছি। হলুদগুলো অনেক ভালো হয়েছে। আশাকরি সে লাভের মুখ দেখবে এবং তার হলুদ চাষ দেখে অন্য চাষিরাও আগ্রহী হচ্ছে।

প্রিন্ট করুন