Header
প্রিন্ট তারিখঃ অক্টোবর ১৫, ২০২৬ , ১০:৩৬ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ অক্টোবর ১৫, ২০২৬ , ৮:৫৯ অপরাহ্ণ

দুর্নীতির অভিযোগে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে দুদকের আকস্মিক অভিযান

লেখকঃ পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি

পিরোজপু জেলা হাসপাতালে নানা অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ এবং দালালচক্রের দাপট খতিয়ে দেখতে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে দুদক পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি এনফোর্সমেন্ট প্রতিনিধিদল এই অভিযান চালায়।পরিদর্শনের পাশাপাশি চিকিৎসা সংক্রান্ত নানা অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র তলব করেছেন দুদকের কর্মকর্তারা।

অভিযানকালে হাসপাতালটির বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখার পাশাপাশি বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প জেনারেটর ব্যবস্থার সার্বিক পরিস্থিতি এবং রোগীদের দেওয়া খাবারের মান পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে হাসপাতাল সংলগ্ন বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালচক্রের সক্রিয় উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে অভিযান পরিচালনাকারী সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

বিশেষ করে ডেঙ্গু রোগীদের সেবার ধীরগতি নিয়ে রোগীদের মনে জমে থাকা ক্ষোভের বিষয়টি তুলে আনে দুদক। সাধারণ রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে দীর্ঘ তিন থেকে চার দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের সময় পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন জানান, হাসপাতালটি ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও প্রয়োজনীয় জনবল সংকট কাটেনি এবং সব কার্যক্রম পুরোপুরি চালুর জটিলতা রয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে রিপোর্ট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তবে আগামীতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যেন ডেঙ্গু পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া যায়, সেই উদ্যোগ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নেবে বলে আশ্বস্ত করেছে।

এছাড়া ডেঙ্গু ওয়ার্ডের অনেক রোগীই সরকারি খাবার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে দুদক জানায়, ভবনটি ২৫০ শয্যা অনুযায়ী ব্যবহৃত হলেও সরকারি বরাদ্দ এখনও আটকে আছে ১০০ শয্যার বাজেটে। ফলে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় বাধ্য হয়েই সব রোগীকে খাবার সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

দুদকের সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশেই পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে এই এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালানো হয়েছে। টেস্টের প্রক্রিয়াকরণ, দালালের দৌরাত্ম্য, খাবারের মান ও জেনারেটর পরিচালনাসহ সামগ্রিক বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।অভিযোগগুলোর সত্যতা ও দুর্নীতি প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুদকের এই এনফোর্সমেন্ট অভিযানের বিষয়ে কথা বলতে পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমানের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রিন্ট করুন