কুড়িগ্রামে চার উপজেলার মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন একজন কর্মকর্তা। নিজের দায়িত্বের পাশাপাশি তিনটি উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে কার্যত হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। এতে ব্যাহত হচ্ছে দাপ্তরিক কার্যক্রম। আর কর্মকর্তা না পেয়ে বারবার ফিরে যেতে হচ্ছে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে।
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মো. মহিম আল মোস্তাকুর একই সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন চর রাজিবপুর, চিলমারী ও উলিপুর উপজেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার। চার উপজেলার নারী উন্নয়ন, মাতৃত্বকালীন ভাতা, কিশোর-কিশোরী ক্লাব, নারীদের প্রশিক্ষণসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্ব এখন কার্যত একজনের ওপর।
ফলে একদিকে চার উপজেলার দাপ্তরিক কাজ সামলাতে গিয়ে কর্মকর্তার ওপর বাড়ছে চাপ, অন্যদিকে নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকায় সেবা কার্যক্রমেও তৈরি হয়েছে জটিলতা। বিশেষ করে দূরবর্তী চর ও দুর্গম এলাকার মানুষকে প্রয়োজনীয় সেবা নিতে এসে পড়তে হচ্ছে বাড়তি ভোগান্তিতে।
সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, জরুরি কাগজপত্রে স্বাক্ষর, আবেদন যাচাইসহ বিভিন্ন কাজে উপজেলা সদরে এসে অনেক সময় কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। কর্মকর্তা অন্য উপজেলায় দায়িত্ব পালনে থাকায় একই কাজের জন্য একাধিকবার অফিসে আসতে হচ্ছে। এতে নষ্ট হচ্ছে সময়, বাড়ছে যাতায়াত খরচ এবং ভোগান্তিরও শেষ নেই।
রৌমারী ও চর রাজিবপুরের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বিভিন্ন সরকারি সেবা ও দাপ্তরিক প্রয়োজনে দূর-দূরান্ত থেকে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসতে হয়। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অন্য উপজেলায় থাকলে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন না করেই ফিরে যেতে হয়। পরে আবার আসতে হয় একই কাজে।
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নারী উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এই দপ্তর। ফলে একটি উপজেলার কর্মকর্তা দিয়ে একসঙ্গে চার উপজেলার কার্যক্রম চালানোয় শুধু জনভোগান্তিই নয়, কর্মসূচির নিয়মিত তদারকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, একজন কর্মকর্তার পক্ষে একই সময়ে চারটি উপজেলার প্রশাসনিক ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম কার্যকরভাবে পরিচালনা করা বাস্তবসম্মত নয়। এতে সরকারি কর্মসূচির তদারকি দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি সেবার স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত শূন্য পদে কর্মকর্তা নিয়োগ না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রৌমারী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. মহিম আল মোস্তাকুর আজকালের কন্ঠকে বলেন, ‘অফিসে কর্মী অল্প, কর্মকর্তা নেই। নিজের একটি উপজেলা সামলাতেই হিমশিম খেতে হয়। এর পাশাপাশি আরও তিনটি উপজেলার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমি পুরো হিমশিম খাচ্ছি। পাশাপাশি সেবাও বঞ্চিত হচ্ছেন অনেকেই।’
কুড়িগ্রাম মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জয়ন্তী রানী কালবেলাকে বলেন, ‘অধিদপ্তরে কর্মকর্তা না থাকায় ওই কর্মকর্তাকে চার উপজেলার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। পাশাপাশি নীতিনির্ধারকরা কেন কর্মকর্তা নিয়োগ দিচ্ছেন না, সেটি তাদের বিষয়। অফিসার না থাকায় মূলত এ সমস্যা হচ্ছে।’
চার উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ নারী উন্নয়ন কার্যক্রম যখন একজন কর্মকর্তার ওপর নির্ভরশীল, তখন প্রশ্ন উঠছে, জনবল সংকটের এই দায় শেষ পর্যন্ত বহন করছেন কে? আর সরকারি সেবা নিতে গিয়ে বারবার হয়রানির শিকার হওয়া সাধারণ মানুষের দায়ই বা নেবে কে?
আজকালের কন্ঠ/আর এস