Header
প্রিন্ট তারিখঃ অক্টোবর ৯, ২০২৬ , ৩:৩৪ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ অক্টোবর ৯, ২০২৬ , ১:১২ অপরাহ্ণ

মায়ের মৃত্যুর শোক, রাজপরিবার ছাড়ার পর ডিপ্রেশনে : হ্যারি

লেখকঃ আজকালের কন্ঠ ডেস্ক:

ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারি জানিয়েছেন, মা প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন মানসিক কষ্টের মধ্যে ছিলেন তিনি। মায়ের মৃত্যুর শোক সামলাতে গিয়ে বছরের পর বছর আবেগ অনুভব করতে পারতেন না। এমনকি জীবনে আনন্দ অনুভব করাকেও একসময় মায়ের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা বলে মনে হতো তার। এছাড়া রাজপরিবারের দায়িত্ব ছেড়ে উত্তর আমেরিকায় চলে যাওয়ার পর ২০১৯ সালে প্রায় দুই সপ্তাহ ডিপ্রেশনে (বিষণ্নতা) ভুগেছিলেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি অনলাইন শিক্ষামাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে নিজের জীবনের এসব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ডিউক অব সাসেক্স প্রিন্স হ্যারি।

তিনি বলেন, মায়ের মৃত্যুর পর একসময় তার হাসি কেমন ছিল, এমনকি চেহারাটাও কেমন ছিল—সেসব মনে করতে পারতেন না। তার মনে হতো, মাকে কতটা মিস করেন, তা প্রমাণ করতে হলে তাকে দুঃখের মধ্যেই থাকতে হবে।

হ্যারি বলেন, বিশের দশকে নিজের অনুভূতি থেকে পালানোর আশায় দুবার যুদ্ধে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাতে মনের কষ্ট দূর হয়নি। দীর্ঘদিন আবেগ অনুভব করতে না পারার পেছনে একটি কারণ ছিল, কেউ তাকে বলেনি যে আনন্দে থাকাও স্বাভাবিক এবং এতে মায়ের প্রতি ভালোবাসার কোনো কমতি হয় না।

ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনীতে ১০ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন হ্যারি। এ সময় তিনি আফগানিস্তানে দুবার দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে তিনি বিমান নিয়ন্ত্রণের কাজের পাশাপাশি হেলিকপ্টারচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

২০১৯ সালে স্ত্রী মেগানকে নিয়ে রাজপরিবারের দায়িত্ব থেকে সরে উত্তর আমেরিকায় চলে যাওয়ার পরও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন হ্যারি। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কানাডায় যাওয়ার পর প্রায় দুই সপ্তাহ বিষণ্নতায় ভুগেছিলেন তিনি।

হ্যারি জানান, রাজপরিবারের দায়িত্ব পালনের সময়কার চাপপূর্ণ পরিবেশ থেকে দূরে যাওয়ার দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে তার শরীরে অ্যাড্রেনালিনের মাত্রা কমে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয়। এমন অভিজ্ঞতা আগে কখনো হয়নি তার। তখন মনে হতো, মস্তিষ্ক ঠিকভাবে কাজ করাতে চাপের প্রয়োজন হচ্ছে। এমনকি বাড়িতেও স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছিলেন না।

প্রায় এক মাস আগে স্ত্রী মেগান এবং তাদের দুই সন্তান আর্চি ও লিলিবেটকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে ফিরেছিলেন হ্যারি। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করা পরিবারটি ২০২০ সালে রাজপরিবারের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর এবার ছয় বছর পর যুক্তরাজ্যে ফেরে।

তবে পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে তাদের। হ্যারির মুখপাত্রের অভিযোগ, গত সেপ্টেম্বর মাসে ইংল্যান্ডের গ্রামাঞ্চলে তাদের সন্তানদের নতুন বিদ্যালয়ের আশপাশে কয়েকজন ইউরোপীয় আলোকচিত্রী ঘোরাফেরা করেন। তারা বিদ্যালয়ের সীমানা ঘুরে দেখেন এবং ভেতরে নজর রাখেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের নতুন বাড়ি ও সন্তানদের বিদ্যালয়ের অবস্থান গোপন রাখার চেষ্টা সত্ত্বেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি।

১৯৯৭ সালে গাড়ি দুর্ঘটনায় মা প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুর জন্য দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের পিছু নেওয়াকে দায়ী করে আসছেন হ্যারি। সে সময় পাপারাজ্জিদের ধাওয়া থেকে দ্রুত সরে যাওয়ার সময় ডায়ানার গাড়িটি দুর্ঘটনায় পড়ে। মেগানের প্রতি সংবাদমাধ্যমের আচরণের সঙ্গে মায়ের অভিজ্ঞতারও তুলনা করেছেন হ্যারি।

২০২০ সালে হ্যারি ও মেগান রাজপরিবারের দায়িত্ব ছেড়ে সাধারণ নাগরিক হিসেবে জীবনযাপন শুরু করেন এবং নিজেদের নিরাপত্তার জন্য আলাদা দল গঠন করেন। তবে পরিবারের জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে স্বয়ংক্রিয় পুলিশি নিরাপত্তা চান তারা। রাজপরিবারের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ সদস্যদের মতো তাদের পরিবারকেও এই নিরাপত্তা দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন হ্যারি।

আজকালের কন্ঠ/আর এস

প্রিন্ট করুন