দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় শিক্ষা কার্যক্রমে চরম অনিয়ম ও অবহেলার চিত্র সামনে এসেছে। উপজেলার দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাজিরা খাতায় অনিয়ম এবং জাতীয় পতাকার অবমাননার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি বিদ্যালয়ে ছুটির পরে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি (প্রেজেন্ট) নেওয়ার সত্যতা মিলেছে এবং অন্যটিতে উত্তোলিত হয়েছে ছেঁড়া জাতীয় পতাকা ।
চকসাকোয়া সরকারী বিদ্যালয়টিতে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপস্থিতি খাতায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি থাকলেও বাস্তবে শ্রেণিকক্ষগুলো প্রায় ফাঁকা।
সে সময় তৃতীয় শ্রেণীতে মাত্র চারজন, চতুর্থ শ্রেণীতে তিনজন এবং পঞ্চম শ্রেণীতে মাত্র তিনজন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি দেখা যায়।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকা মোছাঃনিলুফা আক্তার বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি কথা বলতে সম্পূর্ণ অনিচ্ছা প্রকাশ করেন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের এড়িয়ে যান।
অপরদিকে, উপজেলার কালীর বাজার আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকার অবমাননার ঘটনা ঘটেছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি ছেঁড়া জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হচ্ছে, যা স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীকের প্রতি চরম অবমূল্যায়ন।
জাতীয় পতাকার মতো এমন একটি সংবেদনশীল বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ইয়াকুব আলীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনিও কোনো বক্তব্য দিতে নারাজ এক পর্যায় বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এ বিষয়ে খানসামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর তালুকদার-স্যার এর সাথে কথা বললে তিনি বিষয় দুটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, এটি চরম অন্যায়। যেখানে জাতীয় পতাকা আমাদের দেশের পরিচয় বহন করে, সেখানে তা ছেঁড়া অবস্থায় উত্তোলন করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এছাড়া হাজিরা নিয়ে অনিয়মের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা মনে করছেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এই ধরনের শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।