বরফ গলানোর চেষ্টায় ভারত-বাংলাদেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক কাল | Daily AjKaler Kontho

বরফ গলানোর চেষ্টায় ভারত-বাংলাদেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক কাল


আজকালের কন্ঠ ডেস্ক : প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৭, ২০২৬, ২:৫৫ অপরাহ্ন
বরফ গলানোর চেষ্টায় ভারত-বাংলাদেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক কাল

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে গত দুই বছরে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক যোগাযোগ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এর অংশ হিসেবে বাণিজ্য, ভিসা ও কনস্যুলার বিষয়ে দুদেশের প্রাতিষ্ঠানিক বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার এই প্রক্রিয়ার মধ্যেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, আগামী ৮ ও ৯ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ বাণিজ্যবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে অংশ নিতে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল নয়াদিল্লি সফর করবে।

এর আগে ৭ ও ৮ অক্টোবর বৈঠকটি আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু লজিস্টিক জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল ভারতে যেতে পারেনি। পরে বৈঠকের তারিখ এক দিন পিছিয়ে ৮ ও ৯ অক্টোবর করা হয়।

এদিকে বাণিজ্যবিষয়ক আলোচনার পাশাপাশি কনস্যুলার বিষয়ে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক আয়োজন নিয়েও দুদেশ কাজ করছে। এই বৈঠক ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এখনো নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।

ভিসাসংক্রান্ত নানা জটিলতার কারণে কনস্যুলার বৈঠকটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। দুই দেশের নাগরিকদের ভিসা প্রক্রিয়া, কনস্যুলার সেবা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে এ বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে অগ্রগতি ধীর হলেও বাণিজ্য ও কনস্যুলার ইস্যুর মতো প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ চালু রাখা দুই দেশের সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব বৈঠকের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বড় ধরনের অবনতি ঘটে। এরপর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ইস্যুতে মতপার্থক্য দেখা দেয়।

শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, সীমান্ত পরিস্থিতি, ভিসা কার্যক্রম এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যু দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হয়ে ওঠে। ফলে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগও আগের তুলনায় সীমিত হয়ে পড়ে।

এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে নেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়। ভারত দ্রুত নতুন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করে।

ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানায়। একই সঙ্গে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণও দেওয়া হয়।

তবে বাংলাদেশ গত মাসে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেয়নি। পাশাপাশি তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় ভারত সফরের তারিখও এখনো নির্ধারিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সফরের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে দুই দেশের ব্যস্ত কূটনৈতিক সূচিও একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরও আন্তর্জাতিক সফরের কর্মসূচি রয়েছে। অক্টোবরে তার জাপান সফরের কথা রয়েছে। নভেম্বর মাসে তুরস্ক ও সৌদি আরব সফর করার সম্ভাবনাও রয়েছে তার। ফলে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের জন্য পারস্পরিকভাবে সুবিধাজনক সময় বের করাও একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।