আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে রায়পুর উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে ৫ নম্বর চরপাতা ও ৬ নম্বর কেরোয়া ইউনিয়নের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে এ সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল খায়ের ভূঁইয়া।
মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উদ্দেশে আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, দলের নেতা তারেক রহমানের ভিশন বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দলের মধ্যে ঐক্য না থাকলে সাংগঠনিকভাবে বিভক্তি তৈরি হতে পারে উল্লেখ করে তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, একজন চেয়ারম্যান, নয়জন পুরুষ সদস্য ও তিনজন নারী সদস্য—দলের পক্ষ থেকে যাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে, তাদের বাইরে কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করবেন না। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ প্রার্থী হলে সাংগঠনিকভাবে কঠোর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যারা দলের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, নিজেদের অর্থ, শ্রম ও সময় ব্যয় করেছেন এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের সঙ্গে ছিলেন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে তাদের ত্যাগ বিবেচনায় রাখা হবে।
তবে কোনো এলাকায় দলের ভালো প্রার্থী না থাকলে দলের সঙ্গে সরাসরি কাজ না করা, কিন্তু স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এবং দলের পক্ষে ভোট নিশ্চিত করতে সক্ষম—এমন ব্যক্তিকেও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সবকিছু সাংগঠনিকভাবে যাচাই-বাছাই ও বিচার-বিশ্লেষণের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ মতভেদ ও দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দলের পক্ষে না থাকলে রায়পুরবাসীসহ পুরো দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আনোয়ারা হোসেন টিপু, রায়পুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জেড এম নাজমুল ইসলাম মিঠু, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল রহমান ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল ফয়সাল, পৌর বিএনপির সভাপতি এবিএম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম লিটন, সাবেক পৌর বিএনপির সদস্যসচিব শফিকুল আলম আলমাছ, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ কাউসার মোল্লা, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আরমান হোসেন, পৌর যুবদলের সদস্যসচিব জাহিদ মোহাম্মদ জাকির, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নবীউল্লা রুবেল, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব সুজন পাটোয়ারী এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান হৃদয়সহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
দলীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাংগঠনিক ভূমিকা, জনসম্পৃক্ততা, দলের প্রতি আনুগত্য এবং স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় নিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি