Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ , ১:১৪ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ , ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ

সরকারি দর কাগজে, বাজারে ইচ্ছেমতো দাম—লক্ষ্মীপুরে এলপিজি নিয়ে ভোক্তার ক্ষোভ

লেখকঃ জাকির হোসেন জুয়েল, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরজুড়ে রান্নার এলপিজি গ্যাসের বাজারে অস্বাভাবিক দামের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্ধারিত মূল্য তালিকা থাকলেও বাস্তব বাজারে সেই দামে মিলছে না ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার। জেলার বিভিন্ন বাজারে ১ হাজার ৮৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে প্লাস্টিকের সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে দাম নিয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন ক্রেতারা।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সেপ্টেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। সেই হিসাবে লক্ষ্মীপুরে অভিযোগকৃত বাজারদর সরকারি দরের চেয়ে ২৬৫ থেকে ৬১৫ টাকা পর্যন্ত বেশি।

অর্থাৎ ১ হাজার ৫৮৫ টাকার একটি সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হলে একজন ক্রেতাকে একই পণ্য কিনতে অতিরিক্ত ৬১৫ টাকা গুনতে হচ্ছে।

প্লাস্টিকের সিলিন্ডারে বেশি দামের অভিযোগ

ক্রেতাদের অভিযোগ, জেলার বাজারগুলোতে বিশেষ করে প্লাস্টিকের সিলিন্ডারের দাম নিয়ে কোনো একক চিত্র নেই। একেক দোকানে একেক দাম চাওয়া হচ্ছে। কোথাও ১ হাজার ৮৫০ টাকা, কোথাও ২ হাজার টাকা, আবার কোথাও ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা।

বিক্রেতাদের কেউ কেউ সরবরাহ সংকট ও বাজার পরিস্থিতির কথা বললেও ক্রেতাদের প্রশ্ন—সরকারি মূল্য নির্ধারিত থাকার পরও খুচরা বাজারে এত বড় ব্যবধান কেন?

একজন ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার যদি গ্যাসের দাম নির্ধারণ করে দেয়, তাহলে ৩০০-৪০০ টাকা বেশি দিয়ে আমাদের কিনতে হবে কেন? সরকারি দামে যদি গ্যাস না-ই পাওয়া যায়, তাহলে মূল্য নির্ধারণের দরকার কী?”

আরেক ক্রেতা বলেন, “গ্যাস ছাড়া রান্না করা সম্ভব নয়। তাই দোকানদার যে দাম চায়, বাধ্য হয়ে সেই দামেই কিনতে হয়। আমরা শুধু তাকিয়ে থাকি আর পকেট থেকে টাকা বের করে দিই।”

সরকারি দর বনাম লক্ষ্মীপুরের বাজার
ভোক্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে—
বিইআরসি নির্ধারিত মূল্য: ১,৫৮৫ টাকা
লক্ষ্মীপুরে অভিযোগকৃত সর্বনিম্ন দাম: ১,৮৫০ টাকা
অভিযোগকৃত সর্বোচ্চ দাম: ২,২০০ টাকা
সর্বনিম্ন বাড়তি: ২৬৫ টাকা
সর্বোচ্চ বাড়তি: ৬১৫ টাকা

এই হিসাবই বলছে, সরকারি মূল্য ও বাস্তব বাজারদরের মধ্যে রয়েছে বড় ধরনের পার্থক্য।
সরবরাহ সংকটের অজুহাত, নাকি বাজার ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি?

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন বাজারেও সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ সরবরাহ সংকট, আমদানি কমে যাওয়া ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিকে বাড়তি দামের কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।

তবে লক্ষ্মীপুরের ভোক্তাদের প্রশ্ন, সরবরাহ সংকট থাকলে ডিলার পর্যায়ে প্রকৃত ক্রয়মূল্য কত, খুচরা বিক্রেতারা কত দামে কিনছেন এবং কত দামে বিক্রি করছেন—তা কি নিয়মিতভাবে যাচাই করা হচ্ছে?

তাদের মতে, শুধু বিক্রেতার বক্তব্যের ভিত্তিতে নয়, ডিলার থেকে খুচরা দোকান পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থা যাচাই করলেই প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসতে পারে।

বক্তব্য জানতে যোগাযোগ, মেলেনি সাড়া

এলপিজি সিলিন্ডার বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরকারি মোবাইল নম্বরে বেশ কয়েকবার ফোন করা হয়।

এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সরকারি মোবাইল নম্বরেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়েও বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়।

তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ফোনে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি এবং পাঠানো বার্তারও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

ভোক্তার প্রশ্ন—দেখবে কে?
সরকারি মূল্য নির্ধারণের পরও যদি বাজারে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ থাকে, তাহলে মূল্য নির্ধারণের সুফল সাধারণ ভোক্তারা কতটা পাচ্ছেন—এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।

ভোক্তাদের দাবি, জেলার বিভিন্ন বাজারে জরুরি ভিত্তিতে তদারকি চালিয়ে ডিলারদের ক্রয়মূল্য, মজুত, সরবরাহ, খুচরা বিক্রয়মূল্য ও বিক্রয় রসিদ যাচাই করা হোক। পাশাপাশি প্লাস্টিক ও অন্যান্য ধরনের সিলিন্ডারে দামের পার্থক্যের প্রকৃত কারণও খতিয়ে দেখা হোক।

সাধারণ ক্রেতাদের প্রত্যাশা, সরকারি নির্ধারিত মূল্য বাস্তবে কার্যকর করা এবং অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন