সরকারি চাকরি শুধু নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়-বিচারপ্রার্থী মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই একজন বিচারকের মূল দায়িত্ব। এমন বিশ্বাস থেকেই নিয়মিত অফিস সময়ের বাইরেও কাজ করে যাচ্ছেন ময়মনসিংহ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সিভিল জজ সাইফুল ইসলাম।
একজন বিচারকের ডায়রি থেকে’ শিরোনামে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সাইফুল ইসলাম বলেন, নিজেকে যদি কেবল একজন মাসিক বেতনভোগী সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাহলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করে বাসায় ফেরা সম্ভব। কিন্তু নিজেকে বিচারক ও জনগণের সেবক হিসেবে দেখলে দায়িত্বের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়। ময়মনসিংহ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার হিসেবে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০টি দেওয়ানি, ফৌজদারি ও পারিবারিক বিরোধের শুনানি বা মধ্যস্থতা করতে হয় তাকে। তার মতে, প্রতিটি বিরোধের ক্ষেত্রে দ্রুত কার্যক্রম শেষ করার চেয়ে একটি কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানান, এমনও দিন গেছে, একটি বিরোধের সুষ্ঠু মীমাংসার জন্য টানা চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়েছে। ময়মনসিংহ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার হিসেবে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মীমাংসা সভা পরিচালনারও অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
সাইফুল ইসলাম বলেন,“একজন বিচারকের দায়বদ্ধতা শুধু আদালতের চার দেয়ালে বা নির্দিষ্ট অফিস সূচিতে সীমাবদ্ধ নয়। জনগণের সেবা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একজন ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করাই আমার মূল দর্শন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তরিক প্রচেষ্টার ফল হিসেবে সফল বিরোধ মীমাংসাসহ মোট বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ময়মনসিংহ জেলা লিগ্যাল এইড অফিস সারা বাংলাদেশে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। এর আগে নওগাঁয় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সর্বোচ্চ মামলা নিষ্পত্তিকারী ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও কার্যকর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, দেশের বহু বিচারক বিচারপ্রার্থী মানুষের কষ্ট লাঘব এবং দ্রুত ন্যায়বিচার পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের এই কর্মযজ্ঞের অংশ হতে পারাকে তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব নয়, বরং পেশাগত ও নৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে দেখেন।তার ভাষায়, “আইনের পোশাকের ভেতরে এই মানুষগুলোর হৃদয় যখন জনসেবায় স্পন্দিত হয়, তখনই তৈরি হয় আসল বিচারব্যবস্থা।
আজকালের কন্ঠ/আর বি