Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ , ৯:৫১ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ , ৬:২৯ অপরাহ্ণ

যবিপ্রবি স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণীর নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

লেখকঃ যবিপ্রবি প্রতিনিধি

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে এক বর্ণাঢ্য ‘নবীন বরণ’ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতবছর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা যবিপ্রবি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণের মধ্য দিয়ে কলেজ শাখা দ্বিতীয় বছরে পদার্পণ করেছে। যবিপ্রবি স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখায় বিভিন্ন বিভাগে এ বছর মোট ৪৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় যবিপ্রবি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল ও উপহার সামগ্রী দিয়ে বরণ করে নেয় কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ। নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, স্বপ্ন সেটাই, যা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না। শিক্ষার্থীদের স্বপ্নকে বড় করতে হবে। লক্ষ্যের প্রতি ফোকাস থাকলে কোনো বাধাই সামনে দাঁড়াতে পারে না। পারিবারিক মূল্যবোধ ও পিতা-মাতার অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বাবা-মা সন্তানের সবচেয়ে শুভাকাঙক্ষী। তাদের শাসন ও আত্মত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন করা এবং তাদের মুখ উজ্জ্বল করা প্রতিটি সন্তানের দায়িত্ব। একইসাথে অভিভাবকদের প্রতি অনাকাঙিক্ষত প্রতিযোগিতা এড়িয়ে সন্তানের নিজস্ব মেধা, মানসিকতা ও আগ্রহের ক্ষেত্রকে সম্মান জানানোর অনুরোধ করেন। তিনি আরও বলেন, আমাদের শিক্ষা যেন কেবল ডিগ্রির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত ও সমৃদ্ধ করতে হলে শিক্ষার পাশাপাশি সততা, নীতি-নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার বিকল্প নেই।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অভিভাবক ও শিক্ষকদের সম্পর্কের গভীরতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান বলেন, বয়স বাড়ার সাথে সাথে সন্তানদের মধ্যে যে সংকোচ তৈরি হয়, তা দূর করতে পিতা-মাতা ও শিক্ষকদেরই এগিয়ে আসতে হবে। সন্তানকে কেবল শাসন না করে ভালোবেসে কাছে টেনে নিতে হবে। কোনো সমস্যা তৈরি হলে সন্তানরা যেন নির্দ্বিধায় তা পরিবার ও শিক্ষকদের সাথে শেয়ার করতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের প্রতি অহেতুক রাগারাগী না করে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝে মেধা ও চিন্তাকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। একটু মমতার সাথে সুযোগ দিলে আমাদের শিশুরাই ভবিষ্যতে বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়াবে। নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, পড়ালেখার পাশাপাশি পিতা-মাতা ও শিক্ষকদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে। যেকোনো সমস্যা শিক্ষক ও পরিবারের সাথে শেয়ার করবে। নিজেদের মেধা ও দক্ষতাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাও, যেন ভবিষ্যতে শুধু দেশ নয়, পুরো বিশ্বমঞ্চে তোমাদের নাম মর্যাদার সাথে উচ্চারিত হয়।

অনুষ্ঠানে যবিপ্রবি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন যশোর সদরের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. হায়দার আলী, যবিপ্রবি স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য ড. মো. জহুরুল ইসলাম, ড. ফারহানা ইসলামসহ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে যবিপ্রবি স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। নবীন বরণ শেষে কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন