গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় অ্যানথ্রাক্স ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। উপজেলার দুই ইউনিয়নে রোগাক্রান্ত গরুর মাংস কাটাকাটি, নাড়া-চাড়া ও খাওয়ার ফলে শিশু সহ মোট ৩৭ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ ঘটনায় আশপাশের বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জানা যায়, সতেরো সেপ্টেম্বর রাতে সুন্দরগঞ্জের সর্বানন্দ ইউনিয়নের বাছহাটী গ্রামের মো. মঞ্জুরুল ইসলামের একটি বিদেশি জাতের গরু হটাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরদিন সকালে গরুটি জবাই করে গ্রামবাসীর কাছে মাংস বিক্রি করে। মাংস খাওয়ার দু-দিনপর ওই গ্রামের অন্তত দশ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স ভাইরাসের উপসর্গ হিসেবে ফোঁসকা দেখা দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে তারা সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন এবং নমুনা পরীক্ষা করান, সেখানে অ্যানথ্রাক্স ভাইরাসে আক্রান্ত সনাক্ত হয়।
এরআগে ৩১ আগষ্ট একই উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের দুলাল গ্রামে আরেকটি রোগান্ত গরু জবাই করে মাংস কাটাকাটির ঘটনায় পাঁচ জন আক্রান্ত হয়। অ্যানথ্রাক্স ভাইরাস সংক্রামক হওয়ায় দুই ইউনিয়নে ধীরে ধীরে রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাড়ায় বর্তমানে ৩৭ জনে।
রোগীরা জানান, রোগাক্রান্ত গরুটির মাংস কিনে এনে খাবার পর শরীরে নানা জায়গায় প্রথমে ফুটনি ওঠে, তা চুলকালে জ্বালাপোড়া করে, পরে ধীরে ধীরে ফোঁড়া তে রুপ নেয় এবং রস ঝড়তে থাকে। এরপর বুঝতে পারি, এটা সাধারন কোনো ফোড়া নয়, বরং গরুর মাংসের মাধ্যমে ছড়ানো কোনো ভাইরাস। তাৎক্ষনিকভাবে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেই।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার আবু রায়হান মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, অ্যানথ্রাক্স ভাইরাসটি ছড়ায় রোগান্ত গরু থেকে। যে ৩৭ জন রোগী সনাক্ত হয়েছে তাদের সবাই কে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তারা বাসায় আছেন। এই মুহুর্তে কোনো রোগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি নেই। পাশাপাশি রোগীরা আমাদের মনিটরিং এ আছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়।
এদিকে গাইবান্ধা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার-কো অর্ডিনেটর ডা.মো.হারুন অর রশিদ জানান, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (IEDCR) থেকে একটি বিশেষজ্ঞ টিম ভাইরাসটি সনাক্তে ও নিয়ন্ত্রনে মাঠে কাজ করছে এবং আক্রান্তদের পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে করা হচ্ছে।
পাশাপাশি সিভিল সার্জন অফিস, স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং প্রানী সম্পদ বিভাগ সম্মিলিতভাবে কাজ করছে । তিনি আরো জানান, আনথ্রাক্স ভাইরাসের আক্রান্তের চিকিৎসা অত্যন্ত সহজলভ্য। সঠিক ভাবে দশ থেকে পনেরো দিন চিকিৎসা করলে এটা ভালো হয়ে যায়। সুতরাং আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারন নেই ।
তবে এখন পর্যন্ত ওই ৩৭ জন রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে চিকিৎসা নেওয়ায় তাদের অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি