Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ , ১২:২৬ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ , ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ

রায়পুর স্টেশন মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তিতে রাতের আঁধারে পাকা ঘর নির্মাণ

লেখকঃ জাকির হোসেন জুয়েল, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে রায়পুর স্টেশন মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তিতে রাতের আঁধারে পাকা ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার জন্য মৌখিকভাবে নিষেধ করা হলেও তা উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে কাজ চালিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, রায়পুর পৌরসভার দেনায়েতপুর মৌজায় বিদ্যালয়ের নামে মোট ৪৬ শতাংশ জমি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৬ শতাংশ বিদ্যালয়ের আঙ্গিনা ও মাঠের অংশে এবং রাস্তার পশ্চিম পাশে রয়েছে প্রায় ১০ শতাংশ জমি। ওই ১০ শতাংশ জমির অংশেই পাকা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রে জমিটির খতিয়ান নম্বর ১৪০৮ এবং দাগ নম্বর ২৬১৪, ২৬১৫, ২৬১৬, ২৬১৭ ও ২৬১৮ উল্লেখ রয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব দাগের অন্তর্ভুক্ত জমির মধ্যেই বিদ্যালয়ের নামে থাকা সম্পত্তি রয়েছে।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, রাস্তার পশ্চিম পাশে থাকা জমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু হলে বিষয়টি তাদের নজরে আসে। নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মৌখিকভাবে নিষেধ করা হয়। তবে সেই নিষেধ উপেক্ষা করে রাতের আঁধারেও নির্মাণকাজ চালানো হয়। একপর্যায়ে রাতের মধ্যেই পাকা ঘর নির্মাণের কাজ শেষ করা হয়েছে বলে দাবি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।

বিদ্যালয়ের দাবি, স্থাপনা নির্মাণের আগে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে কোনো ধরনের মাপজোক বা সমঝোতা করা হয়নি। একই সঙ্গে নির্মাণকাজের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও তাদের জানা নেই।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের সভাপতি শাহ মোঃ নূর এ হেলাল রায়পুর পৌর প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে বিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি সরেজমিন পরিমাপ, সীমানা নির্ধারণ এবং নির্মিত স্থাপনার বৈধতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউসারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তাঁর কাছে এ বিষয়ে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দেননি। তবে তিনি লোকমুখে বিষয়টি শুনে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ভূমি-সংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে আবেদন করলে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে, বিষয়টি জানতে রায়পুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে থাকা জমিতে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও আলোচনা চলছে। বিদ্যালয়ের নামে থাকা ৪৬ শতাংশ জমির মধ্যে রাস্তার পশ্চিম পাশে থাকা ১০ শতাংশ জমির সীমানা, বর্তমান ব্যবহার এবং সেখানে নির্মিত স্থাপনার বৈধতা ভূমি রেকর্ড ও সরেজমিন মাপজোকের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে রেকর্ডভুক্ত জমিতে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পরও যদি তা যথাযথভাবে যাচাই না হয়, তাহলে সরকারি সম্পত্তির সুরক্ষা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এখন ভূমি অফিসের খতিয়ান, দাগ ও মৌজা ম্যাপ অনুযায়ী সরেজমিন মাপজোক এবং পৌরসভার নির্মাণ অনুমোদনের নথি যাচাই করলেই জমিটির প্রকৃত সীমানা ও স্থাপনার বৈধতা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে।

স্থাপনা নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মো. শরীফ উল্যা, পিতা—মৃত আনোয়ার উল্যার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন