Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ , ১২:১০ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ , ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ

আইন অনুষদের ডিন হলেন সঙ্গীত বিভাগের অধ্যাপক, নিয়োগ ঘিরে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন

লেখকঃ শিহাবুল ইসলাম শাহেদ, জাককানইবি প্রতিনিধি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন হিসেবে সঙ্গীত বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আইন অনুষদের ডিন পদে আইন বিভাগের শিক্ষক না থাকায় নতুন এ নিয়োগকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগে আইন অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইরফান আজিজ। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে বর্তমানে আইন অনুষদের ডিনের দায়িত্ব পেয়েছেন সঙ্গীত বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী।

ডিন নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত সংশ্লিষ্ট অনুষদের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—আইন অনুষদের ডিন হিসেবে অন্য বিভাগের শিক্ষককে কেন দায়িত্ব দেওয়া হলো।

বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চাওয়া হলে, আইন ও বিচার বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এডভোকেট নায়মুর রহমনা দুর্জয়( জেলা ও দায়রা জজ আদালত ময়মনসিংহ) বলেন,

“প্রশাসন একটা বিভাগ ১০ বছর যাবত চলছে এখন অবদি কোন অধ্যাপক নিয়োগ দিতে পারলো না এটাই তাদের বড় ব্যার্থতা।তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ীও এটা হওয়ার কথা না, পদাধীকার বলে ভিসি স্যার পেলে সেটা অন্য বিষয় আর না হয় নিজেদের বিভাগ থেকে যারা সহযোগী অধ্যাপক আছে তাদের হওয়ার কথা।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন কার্যক্রম আমাদের আইন অনুষদের শিক্ষার্থীদের মাঝে খুব হতাশার সৃষ্টি করেছে কেননা এতে করে বুঝা যাচ্ছে যে আমাদের বিভাগের শিক্ষকরা যথেষ্ঠ ক্যাপাবল না অথবা তারা এর জন্য যোগ্য না বা তারা কোন রাজনীতির স্বীকার।”

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বলেন, আইন বিভাগ এখন প্রায় সবদিক দিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ।আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত রাখার জন্য পলিসি মেকিং ও প্রশাসনিক সিন্ধান্ত গ্রহণসহ যে দায়িত্বগুলো আছে এসব অবশ্যই আইন অনুষদের শিক্ষকদের কাছে থাকা উচিৎ।স্যার পরিবহন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে এটা ক্যাম্পাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।তাই প্রশাসনের এই ধরনের সিন্ধান্ত স্যারের উপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে। যেখানে এত গুরুদায়িত্ব দুইটি সেইসাথে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন একসাথে তিনটি দায়িত্ব পালন করতে করলে দিনশেষে ক্যাম্পাসের দুইটি বিভাগ ও পরিবহন ব্যবহার করা সকল শিক্ষার্থীর স্বার্থ রক্ষা হবে কি না এই ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করছি।”

২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের আর ও এক শিক্ষার্থী বলেন, “অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী স্যার অত্যন্ত শিক্ষার্থীবান্ধব, অমায়িক ও যোগ্য একজন শিক্ষক এবং স্যারের নেতৃত্বগুণ ও দক্ষতা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে আইন শিক্ষা অন্যান্য অনেক বিষয়ের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন ও পেশাভিত্তিক। আইন বিষয়ে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি পেশাগত প্রস্তুতি, গবেষণা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডিনের সরাসরি ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আইন অনুষদের ডিন হিসেবে বিভাগের যোগ্য কোনো শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়াই শিক্ষার্থীদের জন্য অধিকতর কার্যকর ও কল্যাণকর হবে বলে মনে করি।”

বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “নিয়ম হলো সিনিয়র অধ্যাপক ডিন হবেন। এক্ষেত্রে সিনিয়র অধ্যাপক না থাকলে সহযোগী অধ্যাপক ডিন হবেন। কিন্তু যাকে আইন বিভাগ থেকে ডিন করা যায়, তাকে নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে কানাঘুষা জানতে পেরেছি। তাই সমালোচনা এড়াতে সাময়িকভাবে ডিন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।”’

উপাচার্য আরও বলেন, ‘আগে আইন ও বিচার বিভাগ কলা অনুষদের অধীনে ছিল। পরে আলাদা অনুষদ করা হয়েছে, ডিনদের কাজ তো আলাদা নয় যে নির্দিষ্ট বিভাগ থেকেই দিতে হবে। যদি কোনো সমস্যা হয়, তাহলে উচ্চপর্যায়ের মিটিংয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাছাড়া যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তিনি যথেষ্ট শিক্ষার্থীবান্ধব এবং শান্ত-শিষ্ট মানুষ।”

বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে কোনো সিদ্ধান্ত বা পরিবর্তন আসে কি না, সেটিও নজরে রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন