কুড়িগ্রামের উলিপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রুগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। গত ৪৮ ঘন্টায় নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত রুগী ভর্তি হয়েছে ৭ জন। এ নিয়ে উপজেলায় সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত রুগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭ জন। গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত রুগীর সংখ্যা বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আরও বেশি ডেঙ্গু রুগীর সংখ্যা বাড়তে পারে বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে উপজেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রুগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে প্রায় ৩৭ জন। এর মধ্যে গত ৪৮ ঘণ্টায় নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭ জন।
বাকি ৩০ জন চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। এদের মধ্যে দু’একজন স্থানীয় ভাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত হলেও অধিকাংশই ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুরে কর্মরত ছিলেন। তারা জানান, প্রচণ্ড জ্বর, সর্দি, বমি ও মাথাব্যাথা উপসর্গ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। পরে পরীক্ষা নিরীক্ষার করে তাদের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। এছাড়া প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ জন ডায়েরিয়া আক্রান্ত শিশু ও বয়স্ক রুগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে যান বলে জানান।
সরেজমিন সোমবার (২৮সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের একটি ওর্য়াডে ১০ শয্যা বিশিষ্ট ডেঙ্গু কর্নার তৈরি করে ডেঙ্গু আক্রান্ত রুগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এসময় সেখানে ডেঙ্গু আক্রান্ত সাত জন রুগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশই ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুরে কর্মরত ছিলেন।
প্রচণ্ড জ্বর, সর্দি, বমি ও মাথাব্যাথা উপসর্গ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক তাদের ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার কথা জানান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ দিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছেন ইছামুর রহমান (৬৫)। তিনি বলেন,গত শুক্রবার গুনাইগাছ পশ্চিম কালুডাঙ্গা থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসছেন। বেশ কয়েদিন থেকে বাসায় অসুস্থ ছিলেন। প্রচন্ড জ্বর ছিলো। কোনক্রমেই জ্বর না থামায় স্থানীয় ক্লিনিকে পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার কথা জানালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে তিন দিন থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এছাড়া বিভিন্ন এলাকা থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসা আব্দুল্লাহ আল নাঈম (১৮), নাজমুল হাসান (৩২), ফারুক মিয়া (২০), শাহিন আলম (২৭), শামসুল আলম (২৬) ও মুকুল মিয়া (৪৩) বলেন, আমরা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। তারা সবাই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করেছিলেন। ঢাকা থেকে বাড়ি আসার পর প্রথমে হালকা জ্বর হয়। পরে পরীক্ষা করে ডেঙ্গু ধরা পড়ে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ তানজিরুল ইসলাম জানান, প্রতিনিয়ত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালের একটি ওর্য়াডে ১০ শয্যা বিশিষ্ট ডেঙ্গু কর্নারে আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি। পাশাপাশি পরামর্শ দিচ্ছি বেশি করে তরল খাবার খাওয়ার জন্য। আর যেসব রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন অধিকাংশ রোগীরা ঢাকা ফেরত। স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত রুগীর সংখ্যা অনেক কম।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ দেবাশীষ রায় জানান, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত রুগীর সংখ্যা প্রায় ৩৭ জন। এদের মধ্যে বেশিরভাগ চিকিৎসা নিয়ে বাসায় চলে গেছেন। তারা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় কর্মরত ছিলেন। তবে স্থানীয় ভাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত রুগীর সংখ্যা অনেক কম। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন রুগীর চাপ অনেক বেশি থাকে। তারপড়েও হাসপাতালের একটি ওর্য়াডে ১০ শয্যা বিশিষ্ট ডেঙ্গু কর্নার তৈরি করে তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আজকালের কন্ঠ/আর বি