Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ , ৭:০৬ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ , ৫:১৭ অপরাহ্ণ

তজুমদ্দিনে বাড়ছে ডেঙ্গু, জনবল সংকটে হিমশিম হাসপাতাল

লেখকঃ মো. মনির খান, তজুমদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় প্রতিদিন বেড়েই চলছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গত দুই মাসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৫ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন আরও চারজন।

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার পাশাপাশি চিকিৎসক ও বিভিন্ন শ্রেণির জনবল সংকটে পড়েছে উপজেলার সরকারি হাসপাতালটি। ফলে বাড়তি রোগীর চাপ সামাল দিতে গিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তজুমদ্দিন উপজেলা ও আশপাশের চরাঞ্চলের দেড় লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক ও সহায়ক জনবল কম থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় জটিল রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর, বরিশাল ও ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কনসালটেন্টের চারটি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এর ফলে শিশু, গাইনি ও অন্যান্য জটিল রোগের ক্ষেত্রে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া ফার্মাসিস্টের দুটি, হিসাবরক্ষকের একটি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফার) একটি এবং ল্যাব টেকনোলজিস্টের একটি পদও শূন্য রয়েছে।

অন্যদিকে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের তিনটি, স্টোরকিপারের একটি এবং স্বাস্থ্য পরিদর্শকের দুটি পদেও বর্তমানে কোনো জনবল নেই।

ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগের প্রকোপের সময় হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে পাঁচটি পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদের মধ্যে চারটিই শূন্য থাকায় হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।তাদের অভিযোগ,তজুমদ্দিনের বিস্তীর্ণ মেঘনা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের মানুষের জন্য জরুরি সময়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো বড় চ্যালেঞ্জ। রোগী পরিবহনের সুবিধার্থে সরকারি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সেটি বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে চরাঞ্চল থেকে গুরুতর রোগীদের হাসপাতালে আনতে স্বজনদের নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. দিব্যেন্দু রায় রাজীব বলেন, বর্তমানে হাম ও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে যে সংখ্যক চিকিৎসক রয়েছেন, তা দিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। আরও চিকিৎসক পদায়ন করা হলে রোগীদের সেবা আরও ভালোভাবে দেওয়া সম্ভব হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুব কবির বলেন, হাসপাতালে সরকার নির্ধারিত খরচে ডেঙ্গুর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিতভাবে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি, দ্রুত প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক পদায়ন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, তজুমদ্দিন হাসপাতালে একজন গাইনি কনসালটেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া হাসপাতালে বর্তমানে যে ওষুধের সংকট রয়েছে, সেটাও চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সমাধান হবে বলে আশা করছি।

স্থানীয়দের দাবি, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগের পাশাপাশি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং পরিত্যক্ত নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি সচল করা প্রয়োজন। এতে উপজেলা ও চরাঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ আরও সহজ হবে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন