কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসককে নির্ধারিত আসনে না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা। অভিযোগ উঠেছে, জরুরি বিভাগের পাশের একটি কক্ষে বসে নাস্তা করছিলেন দায়িত্বরত চিকিৎসক। এ সময় তার টেবিলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল ব্যবহৃত খাবারের প্যাকেট, কাগজ ও খাবারের উচ্ছিষ্ট।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের নির্ধারিত আসনটি ফাঁকা। সেখানে রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছিলেন ডিএমএফ চিকিৎসকরা। এ সময় কয়েকজন রোগী ও স্বজন জানান, জরুরি বিভাগের চিকিৎসককে না পেয়ে তারা খোঁজ নিতে বাধ্য হন।
পরে জরুরি বিভাগের পাশের একটি কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. বায়েজিদ হাসান সেখানে ঝালমুড়ি খাচ্ছেন। তার সামনে থাকা টেবিলে পড়ে ছিল খাবারের উচ্ছিষ্ট, ব্যবহৃত কাগজসহ বিভিন্ন ময়লা। বিষয়টি নিয়ে উপস্থিত রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. বায়েজিদ হাসান বলেন, “এগুলো নোংরা না, খাবার। খাবার খেতে সমস্যা কী?”
চিকিৎসা নিতে আসা রোগী খোকন মিয়া বলেন, “জরুরি বিভাগে এসে দেখি চিকিৎসক নেই। পরে অন্য রুমে গিয়ে দেখি তিনি বসে আছেন। তার টেবিলও ময়লায় ভরা ছিল। একজন চিকিৎসকের টেবিল যদি এমন হয়, তাহলে হাসপাতালের পরিবেশ কেমন হবে?”
কয়েকজন রোগীর স্বজন বলেন, জরুরি বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের নির্ধারিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জরুরি বিভাগে যেকোনো মুহূর্তে গুরুতর রোগী আসতে পারেন। ফলে দায়িত্বস্থলে চিকিৎসকের অনুপস্থিতি নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নুর নেওয়াজ আহমেদ বলেন, “আমি বর্তমানে ছুটিতে আছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”