Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ , ১:৪৪ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ , ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ

রায়পুরে মিটার না দেখেই রিডিং? কতিপয় কর্মচারীর আচরণে জনরোষ সৃষ্টির আশঙ্কা

লেখকঃ জাকির হোসেন জুয়েল, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বিদ্যুৎ মিটার সরেজমিনে না দেখে রিডিং দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পল্লী বিদ্যুতের কতিপয় কর্মচারীর বিরুদ্ধে। প্রকৃত ব্যবহারের সঙ্গে মিল না থাকা রিডিংয়ের ভিত্তিতে অতিরিক্ত বিল তৈরির অভিযোগে গ্রাহকদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ। সংশ্লিষ্টদের এমন আচরণ অব্যাহত থাকলে তা সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে জনরোষ সৃষ্টি করতে পারে—এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি এক গ্রাহকের মিটার ও বিদ্যুৎ বিলের তথ্য পর্যালোচনায় রিডিং নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। গ্রাহকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সন্ধ্যা ৭টায় তার মিটারে রিডিং ছিল ২৩,২৬২ ইউনিট। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা ৫৬ মিনিটে একই মিটারে রিডিং পাওয়া যায় ২৩,৩১১ ইউনিট। কিন্তু ওই গ্রাহকের সেপ্টেম্বর মাসের বিলে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রিডিং ২৩,৩০০ ইউনিট দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় যদি মিটারে রিডিং ২৩,২৬২ ইউনিট থাকে, তাহলে ৯ সেপ্টেম্বরের বিলিং রিডিং কীভাবে ২৩,৩০০ ইউনিট হলো?

মিটার এক জায়গায়, বিলের হিসাব অন্য জায়গায়?

গ্রাহকের অভিযোগ, প্রকৃত মিটার রিডিংয়ের পরিবর্তে অনুমাননির্ভর রিডিং দেওয়ার কারণে তার ব্যবহার ৩০০ ইউনিট হিসেবে দেখানো হয়েছে। এতে প্রায় ১ হাজার ৭০০ টাকার বিল হওয়ার পরিবর্তে প্রায় ২ হাজার ৬০০ টাকা বিল এসেছে বলে দাবি তার।

তার অভিযোগ, কয়েক মাস নিয়মিত মিটার রিডিং না নেওয়া হলে ব্যবহৃত ইউনিট একসঙ্গে যোগ হয়ে যায়। আর বেশি ইউনিট একসঙ্গে যুক্ত হলে গ্রাহককে উচ্চ স্ল্যাবে বিল দিতে হয়। এতে প্রকৃত ব্যবহারের তুলনায় বিলের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

একই গ্রাহকের জুনে ৭১৫ ইউনিট—প্রশ্ন উঠছে রিডিং পদ্ধতি নিয়ে অভিযোগকারীর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চে তার ব্যবহার ছিল ২৩৫ ইউনিট, এপ্রিলে ২৫০, মে মাসে ৩০০, জুনে ৭১৫, জুলাইয়ে ৪২০, আগস্টে ৪৭০ এবং সেপ্টেম্বরে ৩০০ ইউনিট।

বিশেষ করে জুন মাসে ৭১৫ ইউনিটের বিল প্রায় ৯ হাজার ১৭ টাকা হওয়ায় তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, নিয়মিত মিটার রিডিং নেওয়া হলে এত বড় পরিমাণ ইউনিট একসঙ্গে বিলের সঙ্গে যুক্ত হতো না।

তার অভিযোগ, কম ব্যবহারের মাসগুলোতে প্রকৃত রিডিং না নিয়ে পরবর্তী সময়ে একসঙ্গে রিডিং সমন্বয় করার ফলে গ্রাহক উচ্চ স্ল্যাবে চলে যাচ্ছেন। এতে শুধু ভুল রিডিং নয়, স্ল্যাবের আর্থিক প্রভাবও গ্রাহকের ওপর পড়ছে।

সিসিটিভি ফুটেজে মিলতে পারে রিডিং নেওয়ার প্রকৃত তারিখ ও সময়। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, চলতি মাসে মিটার রিডার তার বাসায় এসে ১৭ বা ১৮ সেপ্টেম্বর মিটার রিডিং নিয়েছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বাসা বা প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে যাচাই করা সম্ভব বলে তার দাবি।

তাহলে প্রশ্ন—যদি ১৭/১৮ সেপ্টেম্বর মিটার দেখা হয়ে থাকে, তাহলে ৯ সেপ্টেম্বরের রিডিংয়ের ভিত্তিতে বিল প্রস্তুত হলো কীভাবে?

এই প্রশ্নের উত্তর পেতে প্রয়োজন মিটার রিডারের রুটশিট, রিডিং নেওয়ার তারিখ, অফিসের বিলিং ডেটা এবং সংশ্লিষ্ট মিটারের পূর্ববর্তী রিডিং যাচাই।

শুধু একজনের নয়, আগের অভিযোগও আছে

রায়পুরে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে এর আগেও গ্রাহকদের অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে অস্বাভাবিক বিলের অভিযোগে গ্রাহকেরা রায়পুর পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ে গিয়ে বিল পুনঃযাচাই ও সংশোধনের দাবি জানিয়েছিলেন।

এমনকি মে মাসে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে রায়পুরের এক গ্রাহকের ৩৫ ইউনিটের পরিবর্তে ১৩৫ ইউনিট বিল হওয়ার অভিযোগের কথা উঠে আসে। সংশ্লিষ্ট বিল প্রস্তুতকারী তখন সংখ্যাটি বুঝতে না পারার কারণে ভুল হয়েছে বলে জানান এবং কর্তৃপক্ষ বিল সংশোধনের কথা জানিয়েছিল।

জনরোষ নয়, সমাধান চান গ্রাহকরা

বিদ্যুৎ বিল নিয়ে একের পর এক অভিযোগ তৈরি হলে স্বাভাবিকভাবেই গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ে। তবে এই ক্ষোভ যেন জনরোষে পরিণত না হয়, সেজন্য অভিযোগগুলো দ্রুত যাচাই করে প্রকৃত ভুল চিহ্নিত করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের নিজস্ব অভিযোগ ব্যবস্থাতেই মিটার রিডিং সঠিকভাবে গ্রহণ না করা এবং অতিরিক্ত বিলকে অভিযোগের পৃথক ধরন হিসেবে রাখা হয়েছে।

তাই রায়পুরের গ্রাহকদের প্রশ্ন—মিটার না দেখে রিডিং দেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? আর ভুল রিডিংয়ের কারণে অতিরিক্ত বিল হলে গ্রাহকের ভোগান্তি ও অতিরিক্ত খরচের দায় কে নেবে?

অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে রায়পুর পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্ত, মিটার রিডিংয়ের রেকর্ড যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

প্রিন্ট করুন