কুমিল্লা শহরের টমছমব্রিজ এলাকায় টিউশন থেকে ফেরার পথে ছিনতাইয়ের চেষ্টায় মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আসিফ ফেরদৌস জিদনী। এই ঘটনায় কুমিল্লা শহরের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে কুবি শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটের দিকে টমছমব্রিজ এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান তিনি।
আসিফ ফেরদৌস জিদনী জানান, টমছমব্রিজ এলাকায় যানজট থাকায় তিনি অপেক্ষাকৃত একটা নিরিবিলি জায়গা দিয়ে রাস্তা পার হয়। সেখানে এক ছেলে সুইচগিয়ার (ছুরি) বের করে তার কাছে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ চান। তিনি দিতে অস্বীকৃতি জানালে আরও কয়েকজন সেখানে এসে তাকে ঘিরে ধরেন।
জিদনী বলেন, ‘আমি কোনোভাবে ওই ছেলের সামনে থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করি। এর মধ্যে পেছন দিক থেকে আরও তিন-চারজন আসে। তখন আমি দ্রুত সেখান থেকে চলে আসার চেষ্টা করি। তাদের একজনের হাতে রড ছিল। সে সেই রড দিয়ে আমাকে জোরে আঘাত করলে, আমি প্রচন্ড ব্যাথা পাই। জায়গাটি অন্ধকার থাকায় আমি আতঙ্কিত হয়ে অন্য পাশে দ্রুত চলে আসি। পরে সিএনজিতে করে ক্যাম্পাসে ফিরে আসি।’
তবে হামলাকারীরা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কুমিল্লা শহরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শহরের বর্তমান পরিস্থিতি ভালো নয়। দিনে গেলেও হামলার শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসনের এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এ পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের জন্য ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে।’
এ বিষয়ে সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানার পর এসপিকে জানিয়েছি। তিনি বর্তমানে কুমিল্লায় নেই। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে তারা শহর ও ক্যাম্পাস এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছেন। কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টিও আমরা তাদের জানিয়েছি। যে শিক্ষার্থী হামলার শিকার হয়েছেন, তিনি যদি প্রক্টর বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেন, তাহলে আমরা আরও পদক্ষেপ নিতে পারব।’
আজকালের কন্ঠ/আর বি