Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ , ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ , ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ

পিপিআর-এফএমডি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ জরুরি: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

লেখকঃ নিজস্ব প্রতিবেদক

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, ছাগল-ভেড়ার ভাইরাসজনিত রোগ পিপিআর এবং গবাদিপশুর ভাইরাসজনিত রোগ এফএমডি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে সীমান্ত অতিক্রমকারী এসব প্রাণিরোগ দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল কোনো একক দেশের পক্ষে সম্ভব নয়। এ লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউওএএইচ), জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), উন্নয়ন সহযোগী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে টেকসই অর্থায়ন, কারিগরি সহায়তা এবং শক্তিশালী আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ইতালির রোমে FAO Global Conference for Actions on One Health in Agrifood Systems-এর একটি সাইড ইভেন্টে ‘ওয়ান হেলথ এবং সীমান্ত অতিক্রমকারী প্রাণিরোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের মাধ্যমে কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তর’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। FAO-এর বৈশ্বিক সম্মেলনটি ২১ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর রোমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় আরও জোরালো টিকাদান ও সক্রিয় নজরদারি প্রয়োজন। বাংলাদেশ এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে ছাগল ও ভেড়ার পিপিআর রোগমুক্ত মর্যাদা অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, ডব্লিউওএএইচের বৈশ্বিক কৌশল এবং ২০২৪-২০২৮ মেয়াদের জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনার আওতায় বাংলাদেশ দেশব্যাপী ছাগল ও ভেড়ার পিপিআর টিকাদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। নজরদারিতে কোনো প্রাদুর্ভাব শনাক্ত না হওয়ায় বাংলাদেশ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ডব্লিউওএএইচের কাছে পিপিআর নির্মূল কর্মসূচির ডসিয়ার জমা দিয়েছে।

এফএমডি নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রগ্রেসিভ কন্ট্রোল পাথওয়ে অনুসরণ করে ২০২৫-২০২৮ মেয়াদের এফএমডি নিয়ন্ত্রণ কৌশল প্রণয়ন করেছে। ইতোমধ্যে লক্ষ্যভিত্তিক এফএমডি টিকাদানের ছয়টি ধাপ সম্পন্ন হয়েছে এবং সপ্তম ধাপ চলমান রয়েছে। এফএমডিমুক্ত অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নিরাপদ ও টেকসই মাংস রপ্তানির ভিত্তি গড়ে তোলাই এসব কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, এফএওর কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশ এফএমডির জন্য ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন এবং প্রাণিরোগের প্রাদুর্ভাব তদন্ত ও প্রতিক্রিয়া বিষয়ক ফিল্ড ম্যানুয়াল প্রণয়ন করেছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জাতীয় এফএমডি নিয়ন্ত্রণ কৌশল ২০২৫-২০২৮ এবং পিপিআর নির্মূলের জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২৪-২০২৮ অনুমোদন করেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এফএমডির SAT1 সেরোটাইপের বিস্তার নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ রয়েছে। বাংলাদেশে এখনো এ সেরোটাইপ শনাক্ত হয়নি। তবে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক সীমান্ত পারাপার, প্রাণিসম্পদের চলাচল, প্রাণিসম্পদ-সম্পর্কিত উপকরণ আমদানি এবং ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রাণীর চলাচল বেড়ে যাওয়ায় এর প্রবেশের ঝুঁকি রয়েছে।

আলোচনায় বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। FAO-এর এবারের বৈশ্বিক সম্মেলনে কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থায় ‘One Health’ পদ্ধতি বাস্তবায়ন, রোগ প্রতিরোধ, নজরদারি, আন্তঃদেশীয় সহযোগিতা ও বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন