নড়াইলের লোহাগড়ায় রিয়াদ শেখ (২৩) নামে এক যুবক কারাগারে। পরিবারের দাবী মিথ্যা ঘটনার মামলায় তাকে ফাঁসানো হয়েছে।
প্রশাসনের নিকট সুষ্ঠু তদন্তের দাবী জানিয়েছেন পরিবারটি। রিয়াদ শেখ (২৩) উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য শহিদুল শেখের ছেলে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১০টার দিকে ধোপাদাহ পূর্বপাড়ায় নড়াইল ডিবি পুলিশ এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে রিয়াদ শেখকে গ্রেফতার করে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মেম্বর শহিদুল্লাহর বাড়িতে হামলা ও ছেলে রিয়াদ শেখের গ্রেফতারের বিষয়ে মেম্বর শহিদুল্লাহর স্ত্রী গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধোপাদহ গ্ৰামের রেল ব্রীজের নিচে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত ১২ টার দিকে-বাহির পাড়া গ্ৰামের ৪/৫ জন ব্যক্তি ইয়াবা ট্যাবলেট বেচাকেনা করছিলেন। এসময় খবর পেয়ে ধোপাদহ গ্ৰামের মাদক বিরোধী কমিটির লোকজন তাদেরকে ধাওয়া করে এবং ওই সময় তারা একটি মোটরসাইকেল ও একটি মোবাইল ফোন ফেলে যায়। সাবেক ইউপি সদস্য মো: শহিদুল্লাহ ধোপাদহ গ্ৰামের মাদক বিরোধী কমিটির একজন সদস্য।
আর এই মাদক বিরোধী কমিটির একজন সদস্য থাকার কারণে ওইদিন রাতে মাদক কারবারিরা ভোর ৪ টার দিকে আনুমানিক ৩০/৪০ জনের সংঘবদ্ধ একটি দল সাবেক ইউপি সদস্য মো: শহিদুল্লাহর বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। ওই সময় শহিদুল্লাহ মেম্বরের বাড়ির লোকজন ঘুমান্ত অবস্থায় ছিলেন। বাড়িতে হামলা চালালে তাদের ঘুম ভেঙ্গে যায় এবং সবাই আত্মরক্ষার জন্য ছাদে চলে যায়। ছাদ থেকে সকলে মিলে চিৎকার করলে ও ইট পাটকেল মারলে তারা ৪ টি রামদা ফেলে পালিয়ে যায়।
শহিদুল্লাহ মেম্বার পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উভয়পক্ষ বসে মীমাংসা করার কথা বলেন অথবা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন তাদেরকে।
এক পর্যায়ে বাহিরপাড়া গ্রামের লোকজন এবং ধোপাদহ গ্ৰামের লোকজন মিলে ওই বিষয়ে নিয়ে সালিশ বৈঠকে বসে। সালিশ বৈঠকে মো: শাহ আলম শিকদার, মো: মুছা, মো: এনামুল মোল্যা ও মো: আকমল মোল্যার উপস্থিতিতে বাহিরপাড়া গ্রামের অভিযুক্ত লোকজনদেরকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। ওই টাকাটা বাহির পাড়ার লোকজন দিতে আসলেও নিষেধ করে ধোপাদহ গ্ৰামের এনামুল মোল্যা, জসিম ফকির, আকমল মোল্যা ও রিয়াজ শিকদার। সেই টাকা নিয়ে এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ঝামেলা চলতে থাকে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে আরও জানা গেছে, উল্লেখিত লোকজন ওই মাদক কারবারিদের কাছ থেকে বিভিন্ন অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে থাকে। যার জন্য শহিদুল্লাহ মেম্বারের ৩০ হাজার টাকা দিবে না বলে জানিয়ে দেয় তারা। এছাড়াও ভুক্তভোগী পরিবার সিকদার শাহ আলমকে সমস্ত বিষয়ে দোষারোপ করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারটি আরও জানান, ঘটনার ওই দিনে বাহিরপাড়া গ্ৰামের মাদক ব্যবসায়ী রনি শেখ, মুরাদ শেখ ও মুজাহিদ শেখসহ তাদের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মেম্বর শহিদুল্লাহর বাড়িতে যেদিন হামলা চালায়। হামলা শেষে পালিয়ে যাওয়ার সময় ওই দিনে তাদের রেখে যাওয়া ৪ টি রামদা মেম্বর শহিদুল্লাহর বাড়িতে রেখে যায়। আর সেদিনের রেখে যাওয়া ৪টি রামদা পুলিশ তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে এবং বাড়িতে দেশীয় অস্ত্র থাকার অভিযোগে মেম্বর শহিদুল্লাহর ছেলেকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায়।
গ্রেফতার হওয়া ছেলের মা সিকদার শাহ আলমকে দোষারোপ করে বলেন- মিথ্যা সাঁজানো একটি ঘটনায় আমার নির্দোষ ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে।
এর কারণ হলো পুলিশ কারো বাড়িতে অভিযান না চালিয়ে শুধু আমাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে। এর থেকেই বোঝা যায় এটা একটা পূর্ব পরিকল্পিত সাজানো নাটক। মেম্বর শহিদুল্লাহর স্ত্রী বলেন আমি প্রশাসনের নিকট অনুরোধ করে বলতে চাই এই ঘটনার সঠিক তদন্ত করা হোক। এবং আমার ছেলে রিয়াদ শেখকে মুক্তি দেওয়া হোক।
এ বিষয়ে সিকদার শাহ আলমের সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি বলেন শহিদুল মেম্বরের পরিবার আমার নামে যে অভিযোগ করেছে সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। মাদকের ঝামেলার বিষয়টিও মিথ্যা। তবে পাশের গ্রামের মানুষ এসে অন্য গ্রামে হামলা করেছিল। এ হামলার ঘটনা নিয়ে দুই গ্রামের মানুষ বসে একটা সালিশ করে। সেই সালিশে যারা মেম্বর শহিদুল্লাহর বাড়িতে হামলা করেছিল তাদেরকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা শহিদুল মেম্বরকে দেওয়া হবে এমন কোন কথা সালিসে হয়নি বলেও তিনি জানান।
আজকালের কন্ঠ/আর বি