Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ , ৭:০২ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ , ৫:৩১ অপরাহ্ণ

নোবিপ্রবির পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

লেখকঃ নোবিপ্রবি প্রতিনিধি

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের সাথে ট্যুরে অংশগ্রহণ না করেও ভ্রমন বিল উত্তোলন এবং ওবিই (OBE) কারিকুলাম মিটিংয়ে অনুপস্থিত বহিঃস্থ সদস্যদের অনলাইনে উপস্থিত দেখিয়ে তাদের সম্মানী উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

জানা যায়, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফাইনাল ট্যুরে সেন্ট মার্টিন গমন ও প্রত্যাবর্তনের জন্য গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ছয় দিনের কর্তব্যরত ছুটি নেন মামুন মিয়া। তবে অভিযোগ রয়েছে, তিনি ওই ট্যুরে অংশগ্রহণ না করেও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৭ হাজার ৩১৯ টাকা ভ্রমণ বিল উত্তোলন করেন। সে সময়ে তিনি পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন।

শিক্ষা সফরে অংশগ্রহণ না করেও ভ্রমণ বিল উত্তোলন করলেও মামুন মিয়া বিষয়টিকে একাডেমিক কমিটির সভার সিদ্ধান্ত হিসেবে বিভিন্ন নথিতে উল্লেখ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই উত্তোলন করা ভ্রমণ বিলের টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরত দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিবেদকের হাতে আসা নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিরেক্টর অ্যাকাউন্টস (ভারপ্রাপ্ত) বরাবর ভ্রমণ বিলের অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে রিফান্ড করেছেন বলে উল্লেখ করেন মামুন মিয়া। আবেদনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, অসুস্থতার কারণে তিনি ওই শিক্ষা সফরে অংশগ্রহণ করতে পারেননি।

আবেদনে মামুন মিয়া উল্লেখ করেন, শিক্ষা সফর সম্পন্ন হওয়ার পর ৫ মার্চ ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত বিভাগের একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক তিনি ভ্রমণ ভাতা বাবদ ১৭ হাজার ৩১৯ টাকার বিল উপস্থাপন করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, উক্ত সভায় এই মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, তিনি ট্যুরে অংশগ্রহণ করতে না পারলেও তার বিল সাবমিট করা হবে এবং শিক্ষা সফরে অংশগ্রহণ করা শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার স্বার্থে তিনি এ টাকা রিফান্ড করেছেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আবেদনপত্রটি ফরওয়ার্ড করেন বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান ড. নাজমা বেগম।

তবে এ বিষয়ের সত্যতা জানতে ৫ মার্চ ২০২৫ তারিখে পরিসংখ্যান বিভাগের অনুষ্ঠিত একাডেমিক কমিটির সভায় উপস্থিত অধিকাংশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওইদিন একাডেমিক কমিটির সভায় এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং উপস্থিত সদস্যরা বলেছিলেন, মামুন মিয়া যেহেতু শিক্ষা সফরে অংশগ্রহণ করেননি, সেহেতু তার নামে শিক্ষাসফরের বিল প্রদান করা সমীচীন হবে না।

উক্ত আলোচনার পর শিক্ষাসফর বিল সংক্রান্ত বিষয়ে আর কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি বলেও জানান তারা। পরবর্তীতে তিনি (মামুন মিয়া) বিল করেছেন কি না, সে সম্পর্কেও তারা অবগত ছিলেন না বলেও জানান।

এছাড়াও, ডিরেক্টর অ্যাকাউন্টস বরাবর বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান ড. নাজমা বেগমের ফরওয়ার্ড করা সহকারী অধ্যাপক মামুন মিয়ার আবেদনে উল্লেখ করা—‘একাডেমিক কমিটির (০৫/০৩/২০২৫) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মামুন মিয়া ট্যুরে না গেলেও বিল করবেন এবং প্রাপ্ত অর্থ ট্যুরে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয় করা হবে’—বাস্তবে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত একাডেমিক কমিটির সভায় গৃহীত হয়নি মর্মেও আপত্তি ও অসন্তোষ জানান একাডেমিক কমিটির সভায় উপস্থিত অধিকাংশ সদস্য।

ডিরেক্টর অ্যাকাউন্টস বরাবর মামুন মিয়ার ‘ট্যুরে না গেলেও মামুন মিয়ার বিল উত্তোলন করা হবে এবং উক্ত ভ্রমণ বিলের অর্থ ট্যুরে অংশগ্রহণ করা অন্য শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয় করা হবে’ মর্মে উল্লেখ করা আবেদনপত্রে পরিসংখ্যান বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান ড. নামজা বেগম ফরওয়ার্ড করেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি মামুন মিয়ার রিফান্ড সংক্রান্ত একটি চিঠি ফরওয়ার্ড করেছেন। তবে চিঠিতে ‘ট্যুরে না গেলেও মামুন মিয়ার বিল উত্তোলন করা হবে এবং উক্ত ভ্রমণ বিলের অর্থ ট্যুরে অংশগ্রহণ করা অন্য শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয় করা হবে’ উল্লেখিত কোনো চিঠি ফরওয়ার্ড করেননি বলে প্রতিবেদককে জানান তিনি।

মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে এ অভিযোগের বিষয়ে ৩ সদস্যের গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে তদন্ত করছে বলেও জানা গেছে।

মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ উঠেছে, ১০ জুলাই ২০২৪ তারিখে অনুষ্ঠিত OBE কারিকুলাম সভায় দুইজন বহিঃস্থ সদস্য মিটিংয়ে উপস্থিত না থাকলেও তাদেরকে অনলাইনে উপস্থিত দেখিয়ে সম্মানী ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে। উক্ত সভায় উপস্থিত ছাত্র প্রতিনিধি, শিক্ষক প্রতিনিধি এবং উপস্থিত একমাত্র বহিঃস্থ সদস্যের বক্তব্যেও জানা যায়, কোনো বহিঃস্থ সদস্যই সেদিন অনলাইনে যুক্ত ছিলেন না।

এছাড়া, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের জন্য মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে ১৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন তৎকালীন পরিসংখ্যান বিভাগে কর্মরত এক নারী কর্মকর্তা।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মামুন মিয়া বলেন, “আমি এ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো মতামত দেব না।” এ বিষয়ে প্রতিবেদককে তদন্ত কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে তিনি OBE কারিকুলাম সভার অর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে অবগত নন বলে জানান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তামজিদ হোসাইন চৌধুরী বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন