বেশি লাভের আশায় হিমাগারে দীর্ঘদিন জমা রাখা প্রায় ৩০ হাজার মণ আলু পচে নষ্ট হয়ে গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মাদারীপুর বিসিক শিল্পনগরী এলাকার ‘মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজে’। নষ্ট হওয়া এই আলুর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে কারণ অনুসন্ধানে ৫ কার্যদিবসের সময় দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, হিমাগারের মালিক মীর হাবিবুর রহমান বেশি মুনাফার আশায় ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ৬০ কেজি ওজনের প্রায় ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার বস্তা (১২ লাখ কেজি) আলু জমা রাখেন। তবে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাজারে আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় আলুগুলো হিমাগারেই থেকে যায়। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় হিমাগারের ভেতরেই আলুর মান নষ্ট হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। নষ্ট হয়ে যাওয়া এসব আলু এখন লোকালয়ে ফেলে পরিবেশ দূষণ না করে স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের মাঝে পশুখাদ্য হিসেবে বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। আলু পচে যাওয়ার কারণ হিসেবে হিমাগারের মালিক মীর হাবিবুর রহমান জানান, সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। তবে ভেতরে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তাপমাত্রা নষ্ট হয়ে এমনটি ঘটতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান এনে হিমাগার পরীক্ষা করার পর আসল কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি।এদিকে এই বিপুল পরিমাণ আলু সরবরাহ না হওয়ায় স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।
বাজারের চাহিদা মেটাতে ব্যবসায়ীদের এখন অন্য জেলা থেকে বাড়তি পরিবহনে আলু আনতে হচ্ছে, যার ফলে খরচও বেড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের মতে, অধিক লাভের আশায় আলু দীর্ঘ দিন ধরে আটকে রাখা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বাজারের চাহিদা, সরবরাহ এবং হিমাগারে রাখার মেয়াদ বিবেচনা না করলে লাভের বদলে পুরো মূলধনই লোকসানের মুখে পড়ে। মাদারীপুরের এই ঘটনাটি কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে ছাড়ার গুরুত্ব আবারো মনে করিয়ে দিচ্ছে। জেলা প্রশাসক মিজ্ মর্জিনা আক্তার জানান, হিমাগারে বিপুল পরিমাণ আলু পচে যাওয়ার ঘটনাটি উদ্বেগজনক। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি