Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ , ৫:৪০ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ , ৪:০৯ অপরাহ্ণ

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১২ দফা দাবি নিয়ে কুবি শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন

লেখকঃ কুবি প্রতিনিধি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থী অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে ১২ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে তারা তদন্ত প্রক্রিয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা এসব দাবি তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ঘটনার বিষয়ে পুলিশকে দ্রুত অবহিত করা হলেও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। এছাড়া নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে মরদেহ উদ্ধার পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে, যা তদন্তের স্বার্থে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ১২ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— তদন্ত কার্যক্রমে পুলিশের বিলম্ব ও অবহেলার জবাবদিহি নিশ্চিত করা, জিডির পরপরই যথাযথ অনুসন্ধান না চালানোর কারণ প্রকাশ, সম্ভাব্য হত্যাস্থল থেকে ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ ও বৈজ্ঞানিক তদন্ত নিশ্চিত করা, তদন্ত ও প্রেস ব্রিফিংয়ে দায়িত্বে গাফিলতির ব্যাখ্যা প্রদান, সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার ও পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে বিদ্যমান প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব দেওয়া, আটক আসামিদের প্রকৃত বয়স নির্ধারণে অসিফিকেশন টেস্ট সম্পন্ন করে প্রতিবেদন প্রকাশ, আসামিদের বিরুদ্ধে পূর্বের অপরাধমূলক অভিযোগ ও সম্ভাব্য প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের বিষয় তদন্ত, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ খতিয়ে দেখা, কথিত ‘কেবিজি গ্যাং’সহ অন্যান্য কিশোর গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপোষক ও সহযোগীদের আইনের আওতায় আনা, শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম ও দাবির বিষয়ে স্পষ্ট জবাব প্রদান, পূর্বে উত্থাপিত চার দফা দাবির বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করা এবং হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা।

এ সময় বাংলা বিভাগের ২০২১-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফারহা খানম বলেন, “গতকালের অবরোধ কর্মসূচি থেকে আমরা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলোর বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা বা দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি; বরং বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে আমরা মনে করি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চার দফা দাবি উত্থাপন করলেও পুলিশ সুপারের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সেগুলোর উল্লেখ ছিল না। এতে মনে হয়, বিষয়গুলো জনসম্মুখে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া অপ্রতিম একজন ভুক্তভোগী হওয়া সত্ত্বেও একটি মহল তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

ফারহা খানম সতর্ক করে বলেন, “প্রশাসন যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব ও দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে না পারে, তাহলে আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি হবে এসপি কার্যালয় ঘেরাও। আমরা একটি নিরাপদ ক্যাম্পাস ও নিরাপদ বাংলাদেশ চাই।”

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর সঙ্গে জড়িত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি, সহযোগী এবং সম্ভাব্য পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একইসঙ্গে কোটবাড়ী এলাকাসহ সমগ্র কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলন থেকে শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও ঘোষণা দেন।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন