দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার পশ্চিম হাসিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় এক চরম ও হৃদয়বিদারক চিত্র। বিদ্যালয়টির পুরো ভবনজুড়ে ধরেছে বড় বড় ফাটল, আর প্রতিনিয়ত খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তার। এমন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ও আতঙ্কজনক পরিস্থিতির মধ্যেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন ক্লাস করছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, এই ভবনের প্রতিটি কক্ষেই মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে পাঠগ্রহণ করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
আতঙ্ক প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা জানায়, আমরা সার্বক্ষণিক ভয়ের মধ্যে ক্লাসে বসে থাকি। কখন ছাদের পলেস্তার মাথায় পড়ে, সেই আতঙ্কে পড়াশোনায় মন বসানো আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন অভিভাবকরাও। ক্ষোভ ও উদ্বেগের সাথে তারা জানান, স্কুলের বেহাল দশার কারণে আমাদের বাচ্চাদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে আমরা মোটেও নিরাপদ না। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তাই দ্রুত এখানে একটি নতুন বিল্ডিং নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি।
এমন অসহায় পরিস্থিতিতে প্রধান শিক্ষক ফয়েজ আহমেদ বলেন, বিদ্যালয় ভবনটির এই বেহাল দশা ও ঝুঁকির কথা জানিয়ে আমি অন্ততপক্ষে পাঁচবার উপজেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত দরখাস্ত করেছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি, এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হুমায়ুন কবীর তালুকদার বলেন, বিষয়টি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমি বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করা যায়, খুব অল্প কিছুদিনের মধ্যেই নতুন ভবনের ব্যবস্থা হবে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি